Close

World Chess Championship 2023: দুই মহারথীর বিশ্বখেতাবী লড়াই- দু’টি তাৎপর্যপূর্ণ ড্র

বিশ্বখেতাবী লড়াইতে দুটি অমিমাংসীত ম্যাচ, অষ্টম ও চতুর্দশ রাউন্ড, দুটিতেই ডিং সাদা, প্রত্যুত্তরে নেপোমনিয়াশির নিমজো-ইন্ডিয়ান ওপেনিং।

Source: FIDEhttps://app.fide.com/upload/21017/135007e7085979a7d5b41ce54c0e54d7.jpg

অষ্টম গেমে নিমজো ইন্ডিয়ান প্রতিরক্ষা বেছে নিচ্ছেন ইয়ান নেপোমনিয়াশি। নিমজো ইন্ডিয়ানে কালো পনগুলিকে নিয়ে পরিকল্পনায় কিছুটা নমনীয়তা রাখে। অর্থাৎ, প্রতিপক্ষের ব্যূহরচনা দেখে তার প্রত্যুত্তরে পনকাঠামো সজ্জিত করা যায়। যদিও নিমজো-ইন্ডিয়ান শাখা থেকে দ্রুত সেমিশ কাঠামোয় রূপান্তরিত হয়ে যায় খেলাটি।

World Chess Championship 2023: ডিং লিরেন বনাম ইয়ান নেপোমনিয়াশি
d4 Nf6 2. c4 e6 3. Nc3 Bb4 4. e3 O-O 5. a3 Bxc3+ 6. bxc3 d6 7. Ne2 c5 8. Ng3 Nc6 9. Ra2 b6 10. e4 Ba6 11. Bg5 h6 12. h4 hxg5 13. hxg5 g6 14. gxf6 Qxf6 15. e5 dxe5 16. d5 Ne7 17. d6 Nf5 18. Ne4 Qd8 19. Qd3 Kg7 20. g4 Bb7 21. Rh3 Nh4 22. g5 Bxe4 23. Qxe4 Nf5 24. Rd2 Rh8 25. Rxh8 Qxh8 26. d7 Rd8 27. Qxe5+ Kh7 28. Qh2+ Kg7 29. Qe5+ Kh7 30. Qh2+ Kg7 31. Qc7 Qh4 32. Kd1 Qxg5 33. Kc2 Qe7 34. Bg2 e5 35. Be4 Nh6 36. Qxa7 Ng4 37. Bf3 Nxf2 38. Rxf2 e4 39. Re2 f5 40. Qxb6 Rxd7 41. Qb8 Qd6 42. Qxd6 Rxd6 43. Bxe4 fxe4 44. Rxe4 Kf6 45. Re8 1/2-1/2

ডিং দাবার প্রাথমিক ব্যাকরণ ভাঙছেন। পিসের দ্রুত সক্রিয়করণ ওপেনিং-এর ব্যাকরণ। কিন্তু, ডিং পিস সচলীকরণের ব্যাপারে খুব একটা উদ্যোগ নিচ্ছেন না। বরং পনগুলিকে ব্যাকরণবহির্ভূত নিয়মে সাজিয়ে নিচ্ছেন। খেয়াল করলে দেখা যাবে সাদা নিজের দু’টি বিশপকে অনেক পরে ঘর থেকে বের করছে। অপেক্ষা করছেন ডিং। কীসের অপেক্ষা? প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা বোঝার অপেক্ষা। ধীর, স্থির ব্যূহরচনা করছেন। সাদার d4, c4, c3, e3 পনকাঠামো অদ্ভুত। দলাপাকানো। একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত কিন্তু দাবা-ব্যাকরণের বাইরের বিন্যাস। এখানেই খেলাটি অন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাচ্ছে। সুপার গ্র্যান্ডমাস্টারদের যুক্তিবোধ, অনুশীলিত দক্ষতা এবং কৌশলী উদ্ভাবনের নমুনা।


ডিং Ra2 দান দিচ্ছেন ন নম্বর দানে! পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া এই দানটি ভাবা ও খেলার সাহস অর্জন করা অসম্ভব। ডিং নিজেও বলছেন, তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে (রিচার্ড র‍্যাপো তাঁর ‘সেকেন্ডস’ দলের মুখ্য পরামর্শদাতা) অনেক প্রস্তুতির পরে দানটি বেছে নিয়েছেন। এর’ম দান শীর্ষস্তরের প্রতিযোগিতায় বিরল। ১৯৪৯ সালে লিলিয়েন্থাল বনাম জাবোর ম্যাচে এবং ১৯৫০ সালে কোটভ বনাম ন্যাইডর্ফের ম্যাচে এমন দান খেলা হয়েছিল। আর, এর’ম দানের দীর্ঘপ্রস্তুতি নেন দু’জন। ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানা, যিনি ২০১৮ সালে কার্লসেনের সঙ্গে বিশ্বখেতাবী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছিলেন। আর, এইধরণের চমকপ্রদ দান খেলেন আরাম হাইকোবিয়ান। দানটি আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন। বেনিয়ম। প্রথাগত দাবাকৌশলের বাইরের দান। নিয়ম মানা বাধ্য ছাত্রের প্রশ্নপত্রে আচমকা সিলেবাসের বাইরে থেকে আসা প্রশ্নের মতো। এই দানটির তাৎপর্য বোঝা যাচ্ছে কয়েকটি দান পরে গিয়ে। এমনই আরেকটি দান ২১ নম্বর দানে Rh3 খেলা। নেপোমনিয়াশি নিজের সাদা-ঘরের বিশপটি খাইয়ে দেওয়ার পরে সাদার দু’টি রুক অমিত শক্তিধর হয়ে উঠছে। কয়েকটি দান আগেই যা মনে হচ্ছিল ‘উদ্দেশ্যহীন’, সেটাই উদ্দেশ্যপূর্ণ হয়ে উঠল। সাদার d-file এর অপ্রতিরোধ্য পনের পেছনে রুকের জোর পড়ল। আর, ফাঁকা h-file এর দখল কার্যকরী হয়ে উঠল।


ডিং এত ভাল খেললেন, আক্রমণের নতুন এক সংজ্ঞা তৈরি ক’রে দিলেন। তারপরও সুবিধাজনক অবস্থানকে জেতার দিকে নিয়ে যেতে পারলেন না। দাবা-ইঞ্জিন দেখাচ্ছিল 32.Qxd8 Qe4+ 33.Re2 Qb1+ 34.Kd2 Qb2+ 35.Kd3 Qb1+ 36.Rc2 Qd1+ 37.Ke4 Qxc2+ 38.Bd3 Nd6+ 39.Ke5 Qxd3 40.Qf6+ দানপর্যায় যদি ভাবতে পারতেন ডিং লিরেন, তাহলে জিততে পারতেন। কিন্তু, দাবার বোর্ডে বসে অমন একটা প্রবল ঝুঁকির দানপর্যায় (কারণ, এই দানপর্যায়ের একটা কোনও দানে ভুলচুক হলে খেলার মোড় ঘুরে যেত) ভাবতে পারা এবং ভাবনাটাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারা প্রায় অসাধ্য একটি কাজ। ডিং ওই শক্তিশালী দানপর্যায়ের বদলে যে দানগুলি দিলেন, তাতে নেপোমনিয়াশি স্বস্তির অবকাশ পেলেন। আর, নেপোমনিয়াশির কৃতিত্ব এটাই যে, প্রবল চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিলেন। ডিংয়ের Ra2 দান যে-কোনও দাবাড়ুর কাছেই আশ্চর্যজনক দান। বিস্ময়কর দান। অথচ, নেপোমনিয়াশি b6, Ba6 পরপর দান দিয়ে ঠিক সেই ব্যূহটাই রচনা করলেন, যা স্বাভাবিক। যা শান্ত, স্থির কিন্তু প্রতিঘাতী। মিডলগেমের চূড়ান্ত উত্তেজক ও জটিল পরিস্থিতিতেও চোখে চোখ রেখে লড়াই চালালেন। হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া গেমে যতটুকু ভাল কৌশল অবলম্বন সম্ভব, সেটুকুই পালন করলেন। নিশ্চিত হার বাঁচিয়ে ঘরে ফিরলেন।


পেন্টালা হরিকৃষ্ণ, ভারতের অন্যতম সেরা সুপার গ্র্যান্ডমাস্টার এই গেমটির পরে টুইট করেছিলেন যে, “কেউ যদি কখনও বলে ড্র মানেই খুব একঘেয়ে খেলা, তাহলে তাকে এই গেমটা দেখতে বোলো”


বিশ্বনাথন আনন্দ টুইট করেছিলেন, “Ding deserved more for his courage but Nepo defended brilliantly when he needed to. Nerves are a very big factor. This match is for the ages.” সত্যিই এই গেমে নেপোমনিয়াশির পারফরম্যান্সে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার স্নায়ুর চাপ সামলে সাহসী প্রতিরোধের দান দেওয়া।
যে স্নায়ুর চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন কার্লসেনের বিরুদ্ধে আগের বিশ্বখেতাবী লড়াইয়ে, সেই স্নায়ুদৌর্বল্য কাটিয়ে উঠেছেন। ভুল করেননি এমন না, মানুষী দুর্বলতায় স্বাভাবিক ভুল; কিন্তু সামলে নিতে চেষ্টা করেছেন। আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন জয় ধরে রাখতে পেরে। অনেকেরই বক্তব্য, নেপোমনিয়াশির এহেন মনস্তাত্ত্বিক বদলের পেছনে মূল কৃতিত্ব নিকিতা ভিটিউগোভের। তাঁর ‘সেকেন্ডস’-এর দলে আছেন ইয়াদার খাইরুলিন। যদিও, ইয়ানের সেকেন্ডস কারা কারা, সেই বিষয়ে তাঁর মুখে কুলুপ।


চতুর্দশ রাউন্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত উপহার দিলেন দর্শকরা। দাবা যে সারা বিশ্বে কতটা জনপ্রিয় খেলা, তার উদাহরণ ইউটিউব চ্যানেলের লাইভ ভিউ। ইদানীং বেশ কয়েকটি দাবার ওয়েবসাইট বিভিন্ন শীর্ষস্তরের ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার করে। ইউটিউবে তাদের চ্যানেলে দাবাতাত্ত্বিকরা বসেন ধারাভাষ্য দিতে। ম্যাচের তুঙ্গমুহূর্তে চেস-ডট-কম নামক চ্যানেলটির লাইভ ভিউ ছিল ৯৫,০০০। চেস-২৪-ডট-কম চ্যানেলে সেই সময় ৩০,০০০ দর্শক খেলাটি দেখছিলেন। অন্যান্য চ্যানেলগুলির সরাসরি সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যা প্রায় তার কাছাকাছি। সব মিলিয়ে প্রায় পৌনে দু’লাখের ওপর দর্শক সরাসরি সম্প্রচার দেখছিলেন। নিজেদের মতামত বিনিময় করছিলেন। অতিপ্রাচীন এই খেলাটির প্রতি হাল আমলে মানুষের ভালবাসা বহুগুণ বেড়েছে। আগে দাবার সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল না বলে বহু দাবাপ্রেমী বঞ্চিত হতেন। এখন তাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন দেখার, সহদর্শকদের সঙ্গে মতামত বিনিময় করার।
চতুর্দশ রাউন্ডেও ডিংয়ের সাদা ছিল। এই রাউন্ডেও সাদার কুইন পন ওপেনিংয়ের বিরুদ্ধে নিমজো-ইন্ডিয়ান ওপেনিং শাখা বেছে নিল কালো।


World Chess Championship 2023: ডিং লিরেন বনাম ইয়ান নেপোমনিয়াশি
1. d4 Nf6 2. c4 e6 3. Nc3 Bb4 4. e3 O-O 5. Bd2 d5 6. a3 Be7 7. Nf3 c5 8. dxc5 Bxc5 9. Qc2 dxc4 10. Bxc4 Nbd7 11. Rd1 Be7 12. Ng5 h6 13. h4 Qc7 14. Be2 Rd8 15. Rc1 Nf8 16. Nge4 Nxe4 17. Nxe4 Qxc2 18. Rxc2 Bd7 19. Bb4 Bxb4+ 20. axb4 Bc6 21. Nc5 Bxg2 22. Rg1 Bd5 23. e4 Bc6 24. b5 Be8 25. Nxb7 Rd4 26. Rc4 Rd7 27. Nc5 Rc7 28. Rc3 Rac8 29. b4 Nd7 30. Rcg3 Nxc5 31. bxc5 Rxc5 32. Rxg7+ Kf8 33. Bd3 Rd8 34. Ke2 Rc3 35. Rg8+ Ke7 36. R1g3 e5 37. Rh8 Rd6 38. b6 Rxb6 39. Rxe8+ Kxe8 40. Bb5+ Rxb5 41. Rxc3 Kd7 42. Rf3 Ke7 43. Rc3 a5 44. Rc7+ Kf6 45. Rc6+ Kg7 46. Ra6 Rb2+ 47. Kf3 Ra2 48. Kg3 h5 49. Ra8 Ra1 50. Kg2 a4 51. Ra5 f6 52. Kf3 a3 53. Ra6 Kf7 54. Ke3 Ke8 55. Ke2 Ke7 56. Kf3 Ra2 57. Ke3 Ra1 58. Ke2 Kf7 59. Kf3 Ra2 60. Ke3 Ke7 61. Kf3 Kd7 62. Rxf6 Rb2 63. Ra6 Rb3+ 64. Kg2 Kc7 65. f4 exf4 66. e5 Kb7 67. Ra4 Kc6 68. Ra6+ Kb5 69. Ra7 Kb6 70. Ra8 Kc5 71. Ra6 Kb5 72. Ra7 Kb6 73. Ra8 Kc6 74. Ra6+ Kd7 75. Kf2 Ke7 76. Kg2 Re3 77. Kf2 Rg3 78. Kf1 Rc3 79. Kf2 Re3 80. Kg2 Kd7 81. Kf2 Kc7 82. e6 Kd8 83. Ra7 Ke8 84. Kg2 Rxe6 85. Rxa3 Rg6+ 86. Kf2 Rg4 87. Ra5 Rxh4 88. Kf3 Ke7 89. Rf5 Ke6 90. Rxf4 Rxf4+
1/2-1/2


ডিং রাজার দুর্গ সাজালেন না। জটিল আক্রমণপদ্ধতি বেছে নিলেন। নাইটটিকে বলিদান দিতে চাইলেন। যাতে আক্রমণের পথ উন্মুক্ত ক’রে ‘হেভি আর্টিলারি ফায়ার’ শুরু করা যায় কালোর রাজার দিকে। কিন্তু, নেপোমনিয়াশি ইস্পাতশীতল মস্তিষ্কে সেইসব সামলালেন। সাদা যত চেষ্টা করতে লাগল স্থিতাবস্থা ভাঙার, কালোর খেলা তত বেশি ব্যাকরণসম্মত হয়ে উঠল।


ফাইনাল রাউন্ডের জন্য যথাযোগ্য খেলা। সম্ভাবনায় ভরপুর, ঝুঁকিপ্রবণ, মিডলগেমের জটিলতা, এন্ডগেমের কষ্টিপাথরে ফেলে প্রতিদ্বন্দ্বীকে যাচাই ক’রে নেওয়া। সবই ছিল এতে। হয়তো সহজে ড্র-ফলাফলের দিকে যেতে পারতেন দু’জনেই। কিন্তু, ডিং বা নেপো কেউই তা চাইলেন না। বিশ্বখেতাবী লড়াইয়ের শেষ ধ্রুপদী ম্যাচ তাই হার্টবিট বাড়িয়ে দিল। সুসান পোলগার লিখলেন ডিং ১৯নম্বর দানে যে Bb4 খেললেন, তা খানিকটা চাপে পড়েই। কারণ, যেচে কেউ দ্বৈত পনের ঝুঁকি নিতে চায় না, তাও আবার গেম যখন অবধারিত এন্ডগেমে যাত্রা করবে। নেপোমনিয়াশি পিসের মহড়ায় কিছুটা রক্ষণাত্মক। সাদাকে আক্রমণ করার লোভ দেখাচ্ছেন। আক্রমণের পরিকল্পনায় বিপক্ষের সামান্য ভুলচুক হলেই চেপে ধরবেন পাল্টা আক্রমণে। সেই পরিস্থিতি এল ৩৪ নম্বর দানে সাদা Ke2 খেলার পরে। নেপোমনিয়াশি নির্ভুল দান খুঁজে বের করলেন। তখন পাল্লা কিছুটা ভারী কালোর দিকেই।


বিশ্বখেতাব জয়ী হোসে রাউল ক্যাপাব্ল্যাঙ্কার (১৯২১-২৭) প্রিয় বিষয় ছিল এন্ডগেম। একবার প্রতিপক্ষের সঙ্গে এন্ডগেমের লড়াইতে ঢুকলে তাঁর শক্তি অনেকটা বেড়ে যেত। পল কেরেস একবার বলেছিলেন, “ওপেনিং বা মিডলগেমের দু-একটা ভুলচুক সামলে তাও গেমে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু, এন্ডগেমের একটা সামান্য ভুলের মাশুল দিতে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, ফিরে আসার সুযোগ থাকে না।” তবে, ডিং আর নেপো চমৎকার খেললেন রুক+পন এন্ডগেম। কালোর একটি পন বেশি থাকলেও, দাবাতত্ত্ব অনুযায়ী খেলাটি ড্র হয়। কালোর অপ্রতিরোধ্য পনটিকে কুইনে রূপান্তরিত হওয়া থেকে সামলে দেওয়া যায়। যদিও, কালো সাদাকে নিরন্তর পরীক্ষার মুখে ফেলবে। ডিং এবং নেপো তত্ত্বের যথাযথ প্রয়োগ করলেন। এই বিশ্বখেতাবী লড়াইয়ের দীর্ঘতম গেম সম্পন্ন হল। ফলাফল অমীমাংসিত।


নেপোমনিয়াশির সহযোগী কারা, তা সহজে জানার উপায় নেই। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে তাঁদের তরফে। শোনা যাচ্ছে ভ্লাদিমির ক্রামনিক তাঁর পুরনো ছাত্রের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন আবার। তবে, নেপোর খেলার ধরণ সোভিয়েত স্কুলের দাবা থেকে আলাদা। অনেক বেশি আধুনিক। ড্যানিয়েল ডুবভ তরুণ তুর্কি। স্বয়ং কার্লসেন সাগ্রহে তাঁকে নিজের ‘সেকেন্ডস’ দলে রেখেছিলেন। ডুবভের মিখাইল তালসম কৌশলকে মর্যাদা দেন কার্লসেন। সেই ডুবভ বলেছেন, “ডিং যদি নিজের সেরা ফর্মে থাকে, তাহলে তা ইয়ানের থেকে ভয়ঙ্কর। কিন্তু, নিজের খারাপ ফর্মে ডিং ততটাই খারাপ। ডিং আর ইয়ান দু’জনেই যদি খারাপ ফর্মে থাকেন, তাহলে ইয়ান জিতে যাবে।”


ইয়ান নেপোমনিয়াশি আর ডিং লিরেন দু’জনেই নিশ্চয়ই চাইবেন নিজেদের সেরাটা উজাড় ক’রে দিতে। সব প্রস্তুতি সারা। টাইব্রেকারে ম্যাচের নিষ্পত্তি হবে।

টাইব্রেকারের নিয়ম- চারটি র‍্যাপিড গেম খেলা হবে। সময় নিয়ন্ত্রণ- দু’জন দাবাড়ুই ২৫ মিনিট ক’রে সময় পাবেন। আর, প্রথম দান থেকেই প্রত্যেক দানে ১০ সেকেন্ড ক’রে সময় যোগ হবে। চারটি র‍্যাপিড গেমে যদি নির্ণায়ক ফলাফল না আসে, তাহলে দু’টো ব্লিৎজ গেম হবে। দু’জন দাবাড়ুই ৩ মিনিট ক’রে সময় পাবেন। আর, প্রথম দান থেকেই প্রত্যেক দানে ২ সেকেন্ড ক’রে সময় যোগ হবে। তাতেও না হলে একটি ক’রে ব্লিৎজ গেম হবে বিশ্বখেতাবজয়ী নির্ধারণের জন্য। প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য ২০লাখ ইউরো। যেহেতু ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছে, অতএব বিজয়ী পাবেন ৫৫% অর্থ এবং বিজিত পাবেন ৪৫% অর্থ।

লেখক

  • প্রবুদ্ধ ঘোষ

    প্রবুদ্ধ ঘোষ, জাতীয় স্তরের দাবাড়ু ছিলেন, বর্তমানে বেঙ্গল চেস অ্যাসোশিয়েশনের আধিকারিক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।

প্রবুদ্ধ ঘোষ, জাতীয় স্তরের দাবাড়ু ছিলেন, বর্তমানে বেঙ্গল চেস অ্যাসোশিয়েশনের আধিকারিক, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের গবেষক, কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment
scroll to top