Close

নারী বিক্ষোভের মুখে মণিপুরে পিছু হঠল ভারতীয় সেনা

ভারতীয় সেনা পিছিয়ে এল নারী প্রতিরোধের মুখে। শনিবার মণিপুরে নারী প্রতিরোধের মুখে ১২ জন মৈতেই অস্ত্রধারীকে ছাড়লো ভারতীয় সেনা।

KYKL got Banned by Indian Government

৫০ দিন পার হয়ে গিয়েছে। এখনও অশান্ত মণিপুর। সেই পরিস্থিতেই তীব্র প্রতিরোধের মধ্যে পড়ল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। মণিপুরী নারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ছেড়ে দিতে বাধ্য হল ১২ জন মৈতেই অস্ত্রধারীকে। তাঁরা প্রত্যেকেই সংগঠন কাংলেই ইয়াওল কান্বা লুপ (KYKL)সংগঠনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে UA(P)A অ্যাক্টের আওতায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে সাতটি মণিপুরী সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তারমধ্যে এই KYKL অন্যাতম।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার মণিপুরের ইথাম গ্রামে অভিযান চালায় সেনা। গ্রেফতার করা হয় KYKL-এর ১২ জন সদস্যকে। কিন্তু সে খবর চাউর হতেই চারিদিক থেকে সেনাকে ঘিরে ধরেন নারীরা। কমপক্ষে গ্রামের ১২০০ জন নারী সেনাকে ঘিরে ধরেন বলে খবর। ঘন্টার পর ঘন্টা মুখোমুখি অবস্থান চলে দুই পক্ষেরই। অতঃপর পিছু হঠতে বাধ্য হয় ভারতীয় সেনা। ধৃত ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে।

এই ঘটনায় ভারতীয় সেনার তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নারীদের ভিড় জমা হয়েছিল। তা প্রতিহত করতেই সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কারণ তাতে প্রচুর প্রাণহানি ঘটতে পারত। তাই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ১২ জন ‘ক্যাডার’কে স্থানীয় ‘নেতা’র হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার ইম্ফল ইস্টের ওই গ্রামে অভিযানে নামায় ভারতীয় সেনা। সেখানে মৈতেই সমর্থক সংগঠন KYKL-এর সদস্যরা লুকিয়ে রয়েছেন বলে আগেই গোপন সূত্রে খবর ছিল। সেখান থেকে ১২ জন সশস্ত্র সদস্যের একটি দলকে পাকড়াও করেন তারা। ২০১৫ সালে ভারতীয় সেনার ডোগরা ইউনিটের উপর KYKL সংগঠনের সদস্যরাই হামলা চালায় বলে অভিযোগ ছিল। এ ছাড়াও একাধিক হামলার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তাদের। শনিবার ওই গ্রামে স্বঘোষিত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মইরাংথেম তাম্বা ওরফে উত্তমও লুকিয়ে ছিলেন। তিনিই ডোগরা হামলার মূল চক্রী বলে মনে করেন তদন্তকারীরা।

শনিবার অভিযান চলাকালীন এলাকার মৈতেই নারীরা বিক্ষোভের সময় চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে ভারতীয় সেনাকে সামনে এগোতে বাধা দেওয়া হয়। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারংবার তাঁদের কাছে আবেদন জানানো হয় সেনার তরফে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। দীর্ঘ ক্ষণ সেখানে আটকে পড়ে ভারতীয় সেনা। এরপরেই প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছিয়ে আসে সেনা। তারপর বিক্ষোভকারী নারীদের দাবি মেনে ছেড়ে দেওয়া হয় ধৃত ওই ১২ জনকে।

লেখক

Leave a comment
scroll to top