Close

নাইজারে জুন্টার সমর্থনে ফরাসি দুতাবাস আক্রমণ বিক্ষুব্ধ জনতার

নাইজার-এ সামরিক জুন্টার সমর্থনে ফরাসি দুতাবাস আক্রমণ বিক্ষুব্ধ জনতার। শুক্রবার তেচিয়নি নিজেকে নতুন সরকারের রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।

গত রবিবার ৩০শে জুলাই, নাইজার-এ সামরিক জুন্টার সমর্থনে রাজধানী নিয়ামি-তে ফরাসি দুতাবাস আক্রমণ করে নাইজারের সাধারণ মানুষ। ওড়ে রাশিয়ার জাতীয় পতাকা। গত বুধবার নাইজার-এর রাষ্ট্রপতি বাজুমকে তার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আটক করে এবং পরে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন যে তারা তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে এবং সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান স্থগিত করেছে। ২০১১ সাল থেকে নাইজারের রাষ্ট্রপতির রক্ষীবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুরহমানে তেচিয়নি গত শুক্রবার ২৮শে জুলাই টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে নিজেকে নতুন জাতীয় নেতা হিসেবে ঘোষণা করেন।

আফ্রিকান ইউনিয়ন নাইজার-এর সামরিক জুন্টাকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে এবং বহিষ্কৃত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুমকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার হুমকি দিয়েছে, যদি অভ্যুত্থানকারীরা অস্বীকার করে তবে “শাস্তিমূলক ব্যবস্থা” নেওয়া হবে। শুক্রবার জাতিপুঞ্জের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে, আফ্রিকান ইউনিয়ন সামরিক জান্তাকে “১৫ দিনের মধ্যে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে তাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে এবং সাংবিধানিক কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে” আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ আরও জানিয়েছে, যদি সামরিক বাহিনী আনুগত্য না করে, পরিষদ বলেছে যে তারা “প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যার মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও থাকবে।”

এখনও নাইজার-এ প্রায় ১,৫০০ ফরাসি সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যদিও বাজুমকে ফরাসি সরকার সমর্থন করেছিল, তার উৎখাতের পর তাদের মোতায়েনের ভবিষ্যত অস্পষ্ট। গত বছর বুরকিনা ফাসোতে দুটি সফল সামরিক ক্ষমতা দখলের পর এবং ২০২২ সালের শুরু থেকে গাম্বিয়া, গিনির-বিসাউ, মালি, সোয়াও টোমে এবং প্রিন্সিপ এবং সুদানে অনেক চেষ্টার পর অভ্যুত্থান ঘটে। বুর্কিনা ফাসো এবং মালিতে, অস্থিরতা দেখা দেয় যখন ফ্রান্স সাহেল অঞ্চলে তার দীর্ঘদিনের চলমান বিরোধী-বিদ্রোহী অভিযান শেষ করে, যা স্থানীয়দের দ্বারা অকার্যকর বলে নিন্দা করা হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বাজুমকে “সাহসী নেতা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে প্যারিস অঞ্চলগত শক্তিগুলিকে অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে সমর্থন করবে। শনিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে যে তারা নাইজারকে আর্থিক সহায়তা স্থগিত করেছে, এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ওয়াশিংটনের “সামান্য” সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটনকে কড়া জবাব দিয়েছেন তেচিয়নি। তিনি বলেছেন, “আমেরিকা যেন তার সহায়তামূলক অর্থ নিজের দেশের লক্ষ লক্ষ গৃহহীনদের দান করে, দান-ধ্যান নিজের ঘর থেকেই শুরু হয়।”


যদিও এত কিছুর পরেও, তেচিয়নির লোকেরা পিছু হটার কোনও লক্ষণ দেখায়নি। শুক্রবারের বেসামরিক কর্মচারীদের সাথে বৈঠকের পর, সিনিয়র জুন্টা কর্মকর্তা জেনারেল মোহাম্মদ তোম্বা সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে “প্রদত্ত বার্তাটি ছিল চলমান প্রক্রিয়াগুলি বন্ধ না করা, বিষয়গুলি চালিয়ে যাওয়া,” এবং “যা করা উচিত তা সবই করা হবে।”

এই রবিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন তেচিয়নির সমর্থকদের একটি জনতা নাইজার-এর রাজধানী নিয়ামিতে ফরাসি দূতাবাস ঘেরাও করে। দূতাবাসের দরজায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৃহস্পতিবার অভ্যুত্থানকে “অসাংবিধানিক কাজ” হিসেবে নিন্দা করেছিলেন, তবুও কিছু লোক রাশিয়ান পতাকা উড়িয়েছিল। ম্যাক্রোঁর কার্যালয় সতর্ক করে দিয়েছে যে প্যারিস “ফ্রান্স এবং তার স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণ সহ্য করবে না” এবং যদি তার কূটনীতিক বা নাগরিকদের ক্ষতি হয় তবে ফ্রান্স “তাৎক্ষণিক এবং অবিচলিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে।”

লেখক

Leave a comment
scroll to top