Close

প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা চেয়ারম্যানের নেই- জগদীপ ধনখড়

জগদীপ ধনখড় বললেন প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে পারেননা চেয়ারম্যান। এই দিন অধিবেশনে মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা।

জগদীপ ধনখড় বললেন প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে পারেননা চেয়ারম্যান। এই দিন অধিবেশনে মণিপুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন বিরোধীরা।

মণিপুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে ফের উত্তাল হল রাজ্যসভায় অধিবেশন। বিবৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্যসভায় ডেকে পাঠানোর দাবি তোলেন বিরোধীরা। কিন্তু সেই নির্দেশ দেওয়ার মতো ক্ষমতা তাঁদের নেই বলে জানান রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। এরপর চেয়ারম্যানের মন্তব্যের প্রতিবাদ করে এই দিনের মতো রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে যান বিরোধী সদস্যরা।

গত বুধবার রাজ্যসভার অধিবেশন যথাসময়ে শুরু হলেও, এইদিন মণিপুর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হতে দেখা যায় বিরোধীদের। এইদিন ধারা ২৬৭-এর অধীনে আলোচনার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতির দাবি করেন বিরোধী সদস্যরা। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে সভা কক্ষে শুরু হয় হট্টগোল। চেয়ারম্যান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেও, ব্যর্থ হন। এই বিক্ষোভের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে-কে বলার জন্য অনুমতি দেন জগদীপ ধনখড়। বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাড়গে জানান, ধারা ২৬৭-এর অধীনে মণিপুর নিয়ে আলোচনা করা উচিত। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিও দাবি করেন এই বিরোধী দলনেতা। মণিপুর নিয়ে রাজ্যসভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

কিন্তু খাড়গের দাবি এক কথায় নস্যাৎ করেন চেয়ারম্যান ধনখড়। এতে বিক্ষোভের আগুন ততোধিক জ্বলে ওঠে। মণিপুর নিয়ে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির দাবিতে বিরোধীরা আরও সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এই সময় ধনখড় বলেন যে এই চেয়ারে বসে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সভায় উপস্থিত হতে এবং বিবৃতি দিতে বলতে পারেন না। তার কথায় সেই নির্দেশ দিলে, প্রধানমন্ত্রীর পদের অমর্যাদা করা হবে বলে জানান তিনি। এর আগেও কোনও চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেননি বলে জানিয়েছেন ধনখড়। একইভাবে তিনিও দেবেন না বলে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি। ধনখড়-এর মতে, প্রধানমন্ত্রী আসবেন কী আসবেন না, সেটা প্রধানমন্ত্রীর এক্তিয়ারভুক্ত। চেয়ারম্যানের এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন বিরোধী সাংসদরা।

এরপর তাঁরা অধিবেশন ওয়াকআউট করেন। বিরোধীদের ওয়াকআউটের নিন্দাও করেন জগদীপ ধনখড়। বিরোধীরা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, মণিপুর রাজ্যের দাঙ্গার পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন কেন্দ্রীয় সরকার। এইদিন, নব গঠিত INDIA জোটের শরিকেরাও রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে তার কাছে আবেদন করেছেন। অন্য দিকে মণিপুর নিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সরব বিরোধী জোট। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যটির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বারবার সরব হয়েছেন তারা। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে সরকার পক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় লোকসভার মতো রাজ্যসভারও কাজ বিগড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, অধিবেশনের আগামী দিন গুলিতেও এভাবেই দাবি তুলবেন বিরোধীরা।

লেখক

Leave a comment
scroll to top