Close

জ্ঞানবাপী মামলা থেকে সরতে চান মূল মামলাকারী, ফাটল “হিন্দু শিবিরে”?

জ্ঞানবাপী মামলা থেকে সরে আসতে চাইছেন মুল মামলাকারি। এই সিদ্ধান্তের কারণ কী? কী বলছেন মামলাকারী? কী বলছে আদালত?

Kites above Gyanvapi Mosque | Varanasi

নাটকীয় পরিস্থিতি বারাণসী জ্ঞানবাপী মসজিদ মামলায়। সরে আসছেন মূল মামলাকারী। এই ঘটনায় বড় ফাটল “হিন্দু শিবিরে” বলে মনে করছেন অনেকে। দু’বছর আগে বারাণসীর আদালতে পাঁচ মহিলা মিলে দাবি করেন জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্ত্বরে থাকা শৃঙ্গার গৌরী দেবীকে সারা বছর পুজো করার অনুমতি দিতে হবে। এর পর আরও ছয়টি‌ মামলা দায়ের করা হয় জ্ঞানবাপী মসজিদকে কেন্দ্র করে। দু বছর ধরে শুনানি চলা এই মামলাটি থেকে আচমকাই সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন বিশ্ব বৈদিক সনাতন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা জীতেন্দ্র সিং বিষেন। তাঁর ভাইজি দিল্লির বাসিন্দা রাখি সিংহের হয়ে মূল মামলাটি তিনিই করেন। বারাণসীর চার মহিলা লক্ষ্মী দেবী, সীতা সাহু, মঞ্জ ব্যাস এবং রেখা পাঠকের নামও রয়েছে মামলাকারীর তালিকায়। তাঁরা সকলেই বিশ্ব বৈদিক সনাতন সংঘের সদস্য।

মামলার হাল হকিকত


বারাণসীর জেলা আদালতের বিচারক গত মাসে এক নির্দেশে বলেছেন, সাতটি মামলার পৃথক শুনানি হবে না। যেহেতু মামলাগুলি জ্ঞানবাপী মজজিদ সংক্রান্ত তাই একত্রে শুনানি হবে সাত মামলার। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পরই এই মামলা নিয়ে আর লড়াই না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জীতেন্দ্র সিং বিষেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর মামলাটির উদ্দেশ্য বানচাল করে দিতেই বাকি মামলাগুলি করা হয়েছে। এমনকী জেলা আদালত সাতটি মামলা একত্রে শুনানির কথা বলার সময় বাকি মামলার আইনজীবীরা আপত্তি করেননি। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি সাত মামলার একত্রে শুনানি হলে মামলা করার উদ্দেশে সফল হবে না।
প্রসঙ্গত, বারাণসীর এই মামলাটি দুটি কারণে কৌতূহলের উদ্রেক করে। প্রথমত, ধর্মাচরণের অধিকার চেয়ে পাঁচ মহিলার মামলা করার নজির হিসেবে এটা অদ্বিতীয়। দ্বিতীয়ত, মামলার সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও বিভিন্ন সময় আদালতের নির্দেশ, পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ। এ পর্যন্ত মামলার অগ্রগতিতে তারা খুশিই ছিল। ফলে বোঝাই যাচ্ছিল, হিন্দুত্ববাদী শিবির প্রকাশ্যে না থাকলেও তাঁদের সমর্থন রয়েছে এই বিবাদে। বিশেষ করে অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ মামলায় জয় হওয়ায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির আদালতের উপর আস্থা বেড়ে গিয়েছে। শুধু বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদই নয়, মথুরার শাহী ইদগা এবং দিল্লির কুতুব মিনার নিয়েও মামলা করেছে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

আদালতের বক্তব্য


বারাণসীর‌ জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে থাকা শৃঙ্গারগৌরী মন্দিরে বছরের সব দিন পূজাপাঠের অনুমতি পেতে স্থানীয় আদালতের দ্বারস্থ হন পাঁচ মহিলা। ধর্মাচরণ সংক্রান্ত অধিকার আদায়ে পাঁচজন মহিলা আবেদনকারী সারা বছর পুজো করার অধিকার দাবি করে মামলা করেন। অযোধ্যায় রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলা তিন বছর আগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বারাণসীর এই মামলা এতদিনে অনেক দূর গড়িয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহের শুনানিতেই বিচারক মসজিদ চত্বরে থাকা হিন্দু দেবীর মূর্তিপূজার পক্ষে নিজেই সওয়াল করেন। তাঁর বক্তব্য, হিন্দুপক্ষ তাদের দেবতার পূজা করলে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কীভাবে হিন্দুপক্ষকে পূজার অনুমতি দেওয়া যায় তা নিয়ে আদালতের নির্দেশে জরিপও হয়েছে। জরিপের সময় উদ্ধার হওয়া একটি প্রস্তর খণ্ড আদি শিবলিঙ্গ বলে দাবি করেও মামলা হয়েছে আদালতে। যদিও ওই শিবলিঙ্গের কার্বণ ডেটিং করায় নাকচ করে আদালত।
জীতেন্দ্র সিং বিষেনের বক্তব্য, তাঁর উদ্দেশ্য শুধু হিন্দু দেবীর মূর্তি পূজার অধিকার আদায় করা নয়। তাঁর লক্ষ্য আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জ্ঞানবাপী মসজিদ এলাকাটি পুরোটাই কাশী বিশ্বনাথ মন্দির প্রাঙ্গণেরই অংশ প্রমাণ করা। কিন্তু তার ক্ষোভ হিন্দুপক্ষের কিছু লোকই আইনি লড়াইকে বিপথে চালিত করে দিয়েছে। অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেই তিনি এবং পাঁচ মূল মামলাকারী এই আইনি বিবাদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Leave a comment
scroll to top