Close

তিন বছরের কোর্সেই ভর্তির আবেদন বেশি ছাত্রদের; কী বলছে অধ্যক্ষ/পড়ুয়া?

কলেজে শুরু হয়েছে ভর্তির প্রক্রিয়া। কিন্তু ভর্তির আবেদন তিন বছরের কোর্সেই বেশি। কেন চারবছরের কোর্সে ভর্তি হচ্ছে না পড়ুয়ারা?

প্রতীকী ছবি: কলেজে তিন বছরে ভর্তির আবেদন বেশি, বলছে কলেজ কর্তৃপক্ষেরা। চিন্তার ভাঁজ অধ্যক্ষদের কপালে।

স্নাতকে ভর্তি নিয়ে চিন্তিত কলেজের অধ্যক্ষরা। গত ১লা জুলাই থেকে কলেজে কলেজে স্নাতক স্তরের ভর্তির পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই বছর থেকেই পড়ুয়ারা নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী স্নাতক কোর্স করবে। নয়া শিক্ষানীতি অনুযায়ী চার বছরের অনার্স ডিগ্রি ও তিন বছরের ‘মাল্টিডিসিপ্লিনারি জেনারেল কোর্স’ চালু হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে অধিকাংশ আবেদনপত্র জমা পড়েছে মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কোর্সের জন্য। এই ঘটনাই ভাবাচ্ছে অধ্যক্ষদের।

অনার্সে বেশ কিছু বিষয়ে মূলত বিজ্ঞান বিভাগে অত্যন্ত স্বল্প সংখ্যার আবেদনেও তাঁরা চিন্তিত। অধ্যক্ষদের একাংশের মতে, ভীষণ তাড়াহুড়োয় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাদের দাবি পড়ুয়া ও অভিভাবকদের বিষয়টি অগ্রিম বোঝানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সবটা না বুঝেই পড়ুয়ারা আগের মতোই তিন বছরের কোর্সেই আবেদন করছেন। তবে কারও মতে, পড়ুয়াদের অনেকেই চার বছরের কোর্সে আগ্রহী নন। তিন বছর পড়েই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে চাইছেন তাঁরা।

ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের কারণে ছাত্রছাত্রীদের ডিগ্রি কোর্সে পড়ার প্রবণতা কমেছে ছাত্রদের। এমনই এক উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ ছাত্র অভিষেক বাড়ুইয়ের সাথে কথা হয়েছে ইস্ট পোস্ট বাংলার। অভিষেকের বক্তব্য, “বাড়ির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ক্লাস টুয়েলভে পড়ার সময় থেকেই বিভিন্ন টেকনিক্যাল জায়গায় কাজ করছি। এখন কলেজে ভর্তি হলে একদিকে কাজ বন্ধ হবে, আবার ডিগ্রি পাশ করেৎযে ভালো চাকরি পাবো সেই গ্যারান্টিও নেই। নূন্যতম ১৫০০০ টাকার মজুরির ভালো চাকরি পেতে পেতে অন্ততঃ পাঁচ বছর। এখন চার বছরের কোর্স হওয়ায় খরচ আরও বেড়েছে। আর্থিক সমস্যা নিয়ে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই বাজারে ধৈর্য্য সাপেক্ষ। মাঝপথে কোর্স ছেড়ে দিলেও পয়সা নষ্ট হবে।”

নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গী জানিয়েছেন, জমা পড়া আবেদনের বড় অংশই তিন বছরের কোর্সের। ৯০%-র বেশি নম্বর পাওয়া পড়ুয়ারাও তাঁদের মধ্যে রয়েছেন। অনার্সে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, দর্শন, সংস্কৃত, অর্থনীতিতে আবেদন খুবই কম। ক্যানিং বঙ্কিম সর্দার কলেজের অধ্যক্ষ তিলক চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, দুই-তৃতীয়াংশই তিন বছরের কোর্সে আবেদন করেছেন। অনার্সে বিজ্ঞান শাখায় এবং সংস্কৃত, দর্শনেও আবেদন খুবই কম।

মহেশতলা কলেজেও তিন বছরের জেনারেল কোর্সেই আবেদনের সংখ্যা বেশি। অনার্স কোর্সে সংস্কৃত, দর্শন, অর্থনীতি, ভূগোলেও আবেদনের সংখ্যা কম। অধ্যক্ষের যুক্তি, এই সব বিষয় পড়ে চাকরি না পেয়ে এই হাল। যদিও হুগলির চন্দননগর কলেজে চার বছরের কোর্সে ভাল সংখ্যায় আবেদন জমা পড়েছে বলে অধ্যক্ষ দেবাশিস সরকারের দাবি। তাঁর যুক্তি, পড়ুয়াদের সুবিধার্থে তাঁদের ওয়েবসাইটে কোর্স নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। তবে বিজ্ঞান শাখায় আবেদন কম। তাঁর বক্তব্য, বিজ্ঞানের বেশিরভাগ পড়ুয়া বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হচ্ছেন।

দমদম সুধীর চন্দ্র সূর ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তনী মধুমিতা ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য, “কলকাতা সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্সে ভর্তি হওয়ার বিষয়টা বরাবরই সেকেন্ড চয়েসের মতো। সাধারণত জয়েন্ট এন্ট্রান্স-এর রেজাল্টের দেরীর কারণে পড়ুয়ারা এই সব কলেজে ভর্তি হয়ে থাকতো পরবর্তীতে রেজাল্ট বেরোলে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেকনিক্যাল কলেজ গুলোতে ভর্তি হত। যে কারণে প্রথম দিকে কলেজের সিটগুলি ভর্তি হলেও সেশনের মাঝামাঝি অর্ধেক সিট খালি হয়ে যেতো। কিন্তু অনার্স গ্র্যাজুয়েশনে ভর্তির সময় দুর্নীতির পরিমান বাড়াতে এই ধরণের কোর্সে অপেক্ষামূলক ভর্তির ক্ষেত্রেও হেডেক বাড়ে। এছাড়াও সাধারণ অনার্স কোর্সে জব ওরিয়েন্টেড পড়াশোনা হয়না। থিওরী বা প্র্যাকটিকাল ঠিক মতো পড়ালেও তা চাকরির জন্য যথেষ্ট নয় বলেই ছাত্রছাত্রীদের ধারণা। চাকরির আকালের সময় তাই টেকনিক্যাল কোর্সে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। যদিও টেকনিক্যাল কোর্সে ভর্তি হলেই পাশ করার পর ভালো চাকরি মিলবে এই ধারণা ভুল।”

লেখক

Leave a comment
scroll to top