Close

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি শেয়ার বাজার রক্তাক্ত করলেও কেন চুপ মোদী সরকার?

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি শেয়ার বাজারে বিশাল প্রভাব ফেললেও গৌতম আদানি বা লগ্নিকারীদের প্রসঙ্গে কেন চুপ মোদী সরকার?

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি শেয়ার বাজার রক্তাক্ত করলেও কেন চুপ মোদী সরকার?

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের একটি ১০৬-পৃষ্টার তদন্ত রিপোর্টের ফলে কয়েক সপ্তাহ আগেও ফোর্বসের বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা, ও ভারতের সব চেয়ে ধনী ব্যক্তি, গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দরে ব্যাপক ধ্বস নামে এবং চূড়ান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই গ্ৰুপের সংস্থাগুলো ২৫শে জানুয়ারি থেকে ৩০শে জানুয়ারির মধ্যে ৬,৫০০ মার্কিন ডলার (৫.৬ লক্ষ কোটি ভারতীয় টাকা) হারায়। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি শুধুই আদানি গোষ্ঠীর ক্ষতি করেনি, সার্বিক ভাবে ক্ষতি হয়েছে ভারতীয় শেয়ার বাজারের লগ্নিকারীদের এবং আদানি গোষ্ঠীতে লগ্নি করা সরকারি সংস্থাগুলোর যেমন জীবন বীমা কর্পোরেশন (এলআইসি) ও স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (এসবিআই)। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-স্থিত হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ একটি স্বল্প বিক্রেতা সংস্থা যারা শেয়ার বাজারে কর্পোরেট সংস্থাগুলোর শেয়ারের দরের কারচুপি ও নানা ধরণের আর্থিক তছরুপ নিয়ে বেসরকারি ভাবে তদন্ত করে থাকে এবং তার রিপোর্ট প্রকাশ করে থাকে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি নিয়ে চরম আপত্তি জানিয়েছে এই কর্পোরেট সংস্থা এবং এটিকে তারা ভারতের উপর হামলা বলে অভিযোগ করেছে। আদানি গোষ্ঠী হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের নামে যেমন মামলা করার হুমকি দিয়েছে তেমনি ৪১৩-পৃষ্টার একটি জবাবি রিপোর্টও প্রকাশ করে।  

আদানি গোষ্ঠীর তরফ থেকে তাদের মুখ্য আর্থিক অফিসার (সিএফও) যুগেশিংদার “রোবি” সিং সোমবার, ৩০শে জানুয়ারি নিজেদের জবাবি রিপোর্ট দেওয়ার সাথে সাথে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি কে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিদেশী আক্রমণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন ও এই নিয়ে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) ও ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল (এজি) কে এই সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ও ভারতে মামলা করতে অনুরোধ করেছেন।  

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ আদানির মামলা করার হুমকির জবাবে আগেই তাদের মার্কিন আদালতে মামলা করতে বলে যাতে প্রমাণ স্বরূপ এই গোষ্ঠীকে রিপোর্টটিতে ওঠানো ৮৮টি প্রশ্নের জবাবি দলিল জমা দিতে হয়। সোমবার, হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ ভারতের আর্থিক প্রগতি ও গণতন্ত্রের প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করে বলেছে

“[আদানি] সম্ভবত মূল বিষয়গুলির থেকে দৃষ্টি ঘোরাবার প্রচেষ্টা করছে এবং পরিবর্তে একটি জাতীয়তাবাদী আখ্যান তৈরি করছে, আমাদের প্রতিবেদনটিকে “ভারতের উপর হিসাব কষে আক্রমণ” বলে দাবি করে। সংক্ষেপে, আদানি গোষ্ঠী তার দ্রুত উত্থান এবং তার চেয়ারম্যান গৌতম আদানির সম্পদকে ভারতের সাফল্যের সাথে একত্রিত করার চেষ্টা করেছে। 

(এতে) আমরা একমত নই। স্পষ্ট করে বলতে গেলে, আমরা বিশ্বাস করি ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র এবং একটি সম্ভবনাময় ভবিষ্যৎ সহ একটি উদীয়মান পরাশক্তি। আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে ভারতের ভবিষ্যত আদানি গোষ্ঠীর দ্বারা আটকে রাখা হয়েছে, যারা জাতিকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লুটপাট করে নিজেকে ভারতীয় পতাকায় ঢেকে রেখেছে।” 

সিং এর দেওয়া জবাব নিয়ে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ বলেছে যে এই রিপোর্টের ৪১৩ পৃষ্টার মধ্যে মাত্র ৩০ পাতা তাদের রিপোর্টে তোলা অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছে। তাদের ওঠানো ৮৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৬২টির কোনো জবাব আদানি গোষ্ঠী দেয়নি এবং এর মধ্যে পাঁচটি প্রশ্ন কে গোষ্ঠীটি অবান্তর বলে খারিজ করেছে আর বাকি প্রশ্নগুলোর জবাব তাদেরই তদন্ত রিপোর্টের বয়ান কেই পক্ষান্তরে সমর্থন করেছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।  

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি দেখিয়েছে যে আদানির ব্যক্তিগত সম্পদের (১২,০০০ কোটি মার্কিন ডলার) মধ্যে ১০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার ২০১৯-২০২২ এর মধ্যে যোগ হয় তাঁর সাতটি তালিকাভুক্ত সংস্থার শেয়ারগুলোর গড়ে ৮১৯% দর বৃদ্ধি হওয়ার ফলে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ অভিযোগ করেছে যে আদানির সংস্থাগুলোর আর্থিক অবস্থা আর শেয়ারের দরের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে যার ফলে এই গোষ্ঠীর বৃদ্ধি অনেকটাই ফাঁপা।  

রিপোর্টে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ অভিযোগ করেছে যে সাতটি তালিকাভুক্ত সংস্থার ৮৫% ডাউনসাইড আছে যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, আর এর জন্যে তাদের উর্দ্ধমুখী মূল্য নির্ণয় কে দায়ী করা হয়েছে।  

আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে সাতটির মধ্যে পাঁচটি তালিকাভুক্ত সংস্থা নিজেদের বাড়িয়ে দেখানো শেয়ারের দরের ভিত্তিতে বাজার থেকে বিশাল পরিমানের ঋণ নিয়েছে, যার ফলে তাদের বর্তমান অনুপাত (current ratio) একের নিচে চলে গেছে, যা নিয়ার-টার্ম লিকুইডিটি প্রেসার দেখাচ্ছে। তার উপরে আদানি গোষ্ঠীর কতৃপক্ষের ২২ জন মুখ্য প্রতিনিধির মধ্যে আটজনই আদানি পরিবারের সদস্য। এর ফলে আদানি গোষ্ঠীর পরিচালনা নিয়ে চরম অস্বচ্ছতা বজায় থাকে।  

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটির সবচেয়ে বড় অভিযোগ হল এই গোষ্ঠীর শেয়ারের দর বৃদ্ধি করা হয় কৃত্রিম ভাবে, নিজেদেরই বিদেশী ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানির মাধ্যমে লগ্নি করিয়ে। মরিশাস, সাইপ্রাস, সংযুক্ত আমিরশাহী ও ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের নানা রাষ্ট্রে গঠিত বেনামি এই শেল কোম্পানিগুলোর মালিকানা যে আসলে আদানি গোষ্ঠীর হাতেই আছে সেটার স্বপক্ষে নানা ধরণের প্রমাণ দিয়েছে রিপোর্টটি। 

রিপোর্টটি বলেছে যে এই সংস্থাগুলোর মধ্যে, যাদের মধ্যে ৩৮টি মরিশাসে নথিভুক্ত, বেশিরভাগেরই কোনো ব্যবসায়িক কর্মকান্ড নেই আদানি গোষ্ঠীতে লগ্নি করা ছাড়া। অধিকাংশ কোম্পানিগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটও নেই আর থাকলেও তাদের কর্মচারী, পরিচালক বা কতৃপক্ষের কোনো পরিচয় সেখানে দেওয়া নেই। তবুও এই কোম্পানিগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে লগ্নি করেছে।  

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল যে ভারতের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানিগুলোকে সেবির নিয়মাবলী মেনে নিজেদের অন্তত ২৫% শেয়ার বাজারে, নিজেদের পরিচালক ও প্রোমোটারদের বাদ দিয়ে, লগ্নিকারীদের জন্যে ছাড়তে হয়। অভিযোগ যে আদানি গোষ্ঠীর অন্তত চারটি সংস্থা এমনিতেই এই ৭৫% শেয়ারের মালিকানার শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে, এর পরে যদি সেবি ভাল করে তদন্ত করে তাহলে হয়তো এই শেল কোম্পানিগুলোর মালিকানার ভিত্তিতে তাদের চারটি কোম্পানিকেই তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

সূত্র: ইস্ট পোস্ট

নিচের গ্রাফে এই চারটি আদানি গোষ্ঠীর সংস্থার কোম্পানির পরিচালক ও সংস্থাপকদের শেয়ারের অনুপাত দেওয়া হয়েছে।

সূত্র ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট

সন্দেহজনক শেল কোম্পানির লগ্নি

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটিতে যে শেল কোম্পানিগুলো আর ফান্ডগুলো কে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ইলারা। এই সংস্থার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার আদানি গোষ্ঠীতে লগ্নি করা আছে। অভিযোগ ইলারার মুখ্য অপারেটিং অফিসার (সিইও) অতীতের শেয়ার কেলেঙ্কারির মুখ্য অভিযুক্ত কেতন পারেখের সাথে কাজ করা ধর্মেশ দোশীর সাথে ঘনিষ্ঠ। বলা হয়েছে দোশী যখন গ্রেফতারি এড়াতে ফেরার হয়ে যান তখনো ইলারার সিইও তার সাথে যোগাযোগ রাখতেন ও কাজ করতেন।  

মোন্টেরোসা নামক একটি সংস্থার মালিকানায় পাঁচটি ফান্ড আছে যারা আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড (এইএল) এর ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের (৩৬,০০০ কোটি টাকার) শেয়ার কিনে রেখেছে। এই মোন্টেরোসা-র সিইও ভারতের থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া এক হীরের ব্যবসায়ীর সাথে তিনটি কোম্পানিতে পরিচালক হিসাবে কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে আদানির ভাই বিনোদ আদানির মেয়ের বিয়ে আবার এই ফেরার হওয়া হীরের ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে হয়েছে। 

সাইপ্রাসের নিউ লিয়ানিয়া ইনভেস্টমেন্টস নামক সংস্থার কাছে আদানি গ্রীন এনার্জির ৪২ কোটি মার্কিন ডলারের শেয়ার আছে যা এই সংস্থাটির সামগ্রিক পোর্টফোলিওর ৯৫% এর কাছাকাছি। এই নিউ লিয়ানিয়া কে পরিচালনা করে অ্যামিকর্প নামক একটি পরিষেবা ফান্ড। এই অ্যামিকর্প আবার আদানির বিদেশে কোম্পানির শাখা বিস্তারে সাহায্য করেছে বলে অভিযোগ। অ্যামিকর্প আবার আদানি গোষ্ঠীর সাতটি সংস্থাপক বা প্রোমোটার সংস্থা স্থাপন করেছে, ও এর সাথে বিনোদ আদানির সাথে সম্পর্কযুক্ত অন্তত ১৭টি বিদেশী শেল কোম্পানি আর অন্তত তিনটি মরিশাস-ভিত্তিক আদানি গোষ্ঠীর বিদেশী শেয়ারহোল্ডার সংস্থাও স্থাপন করিয়েছে। এই অ্যামিকর্প আবার মালয়েশিয়ার থেকে ৪৫০ কোটি ডলারের আর্থিক তছরুপের অভিযোগে অভিযুক্ত।  

এর মধ্যে ভারতের শেয়ার বাজারে আদানি গোষ্ঠীর ফলো-আপ অফার হিসাবে বাজারে নতুন ২০,০০০ কোটি টাকার শেয়ার ছেড়েছে। কিন্তু বাজারে লগ্নিকারীদের ভরসা ফিরে না আসায় সোমবারও তার আগের সপ্তাহের মতন আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দরে ব্যাপক ধ্বস নামে।

শেয়ার দরে শোচনীয় পতন

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটির ফলে এই গোষ্ঠীর শেয়ার বাজারের পতনের হার নিচের গ্রাফে দেখানো হয়েছে।

সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট
সূত্র: ইস্ট পোস্ট

হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি নিয়ে নিশ্চুপ মোদী সরকার

যদিও বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে শাসক ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে গৌতম আদানির ঘনিষ্ঠতা কে নিয়ে অভিযোগ করে আসছিল, সেই নিয়ে দেশে কোনো তদন্ত হয়নি এবং আদানি গোষ্ঠীর নানা ধরণের আর্থিক কারচুপির ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করার ফলে সাংবাদিক রবি নায়ার ও পরাঞ্জয় গুহঠাকুরতার নামে মামলা করে সংস্থাটি। গুহঠাকুরতা কে ইকোনোমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি (ইপিডব্লিউ) সম্পাদকের পদ থেকে বরখাস্ত করে আর নায়ারের নামে দিল্লী পুলিশ মামলা দায়ের করে।  

কিছুদিন আগেই বিজেপি-ঘনিষ্ঠ এক টিভি সঞ্চালকের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আদানি জানান যে তিনি সমালোচনা কে সবসময় খোলা মনে গ্রহণ করেন এবং তাঁর কাছে বার্তাপ্রেরকের থেকে বার্তাটির মূল্য বেশি। কিন্তু অতীতের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে ভারতে অন্তত চারবার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকা এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে রিপোর্ট করায় নানা সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের উপর মোদী সরকারের খাঁড়া নেমে এসেছে।  

যদিও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি বাজারে আর রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবুও ঘন ঘন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ানো মোদী সরকার এই নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটি নিয়ে সেবি বা এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি) স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোনো তদন্তের কথাও বলেনি।  

বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে মোদী সরকারের আমলে এই তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিজেদের স্বতন্ত্রতা হারিয়েছে এবং এরা আদানির মতন বিজেপি-ঘনিষ্ঠ হিসাবে অভিযুক্ত পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত না করে শুধু মাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধেই তদন্ত করে। যেহেতু সেবি বা ইডি তাদের ওয়েবসাইটে নানা সংস্থার ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা এই সময়ে উল্লেখ্য করেছে, কিন্তু দেশের সর্ববৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তারা নিশ্চুপ, যা তাদের কর্মপদ্ধতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহের অবকাশ সৃষ্টি করে।  

অন্যদিকে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সংস্থার রিপোর্টটি “ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ঘোষণা ও দেশের আর্থিক অগ্রগতি কে স্তব্ধ করবে বলে আদানি গোষ্ঠীর অভিযোগ নিয়েও ভারতের গৃহ মন্ত্রক, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীথারামন বা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং কোনো মন্তব্য করেননি। কেন মোদী সরকার ভারতের শেয়ার বাজারের এই পতন কে উপেক্ষা করছে আর কেনই বা বৃহৎ সরকারি সংস্থাগুলোর কোটি কোটি টাকা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের আদানির উপর তদন্ত রিপোর্টটির ফলে বাজারের ধ্বসে ডুবে যাওয়া নিয়েও নিশ্চুপ এই নিয়েও অনেক প্রশ্ন জাগে।  

Leave a comment
scroll to top