গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার মাটি থেকে যখন রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিয়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স, তখন বিশ্বের তাবড় দুই শক্তি, চীন ও রাশিয়া, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে।
মাদুরো চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে থেকেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে চালানো এই অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পদদলিত করে একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মাদুরো দম্পতি এখন নিউইয়র্কে—মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া জুড়ে ফুঁসে উঠেছে মানুষ। অনেকেই একে বলছেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ।
ইউরোপীয় রাজধানীগুলো তড়িঘড়ি দূরত্ব নিয়েছে ওয়াশিংটন থেকে। ব্রিটেন বলছে, তারা আগে থেকে কিছুই জানতো না।
স্পেন—ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন ঔপনিবেশিক প্রভু—খোলাখুলি সমালোচনা করেছে।
তবে ট্রাম্পের মিত্র ইসরায়েল আর আর্জেন্টিনা সমর্থন জানিয়েছে এই পদক্ষেপে। কিন্তু এখন সবার চোখ বেইজিং আর মস্কোর দিকে। এই দুই পরাশক্তি তো মাদুরো সরকারকে টিকিয়ে রেখেছিল আর্থিক সহায়তা, তেল কেনা আর কূটনৈতিক আড়াল দিয়ে। রাশিয়া যখন ইউক্রেনে আটকা পড়ে আছে, তখন চীনের ঘাড়েই কিছু একটা করার বোঝা চেপেছে।
কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে না। জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলা নিয়ে কিছু নিন্দাবাক্য ছাড়া চীন আর কিছুই করবে না। ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ? মাদুরোকে ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা? সে আশা গুড়ে বালি! চীন সেই রকম কিছু করবে না। এর কারণ সামর্থ্যের অভাব নয়। বরং চীনের হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বার্থের এই হিসাবটাই বলে দেয় ২০২৬ সালে বেইজিং দুনিয়াটাকে কীভাবে দেখে।
চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদুরো অপহরণ বেইজিংয়ের জন্য তিনটি বার্তা বহন করে। তবে তার কোনোটিই হাজার মাইল দূরে গিয়ে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি দেয় না।
প্রথম বার্তা: তাইওয়ান এখন আরো সহজ লক্ষ্য। সামরিক শক্তি দিয়ে ট্রাম্প যেভাবে গোলার্ধে আধিপত্য জাহির করলেন, চীনা বিশ্লেষকরা একে দেখছেন ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি দিয়ে যে কোনো শত্রুর সামরিক মোকাবিলা করার মৌন স্বীকৃতি হিসেবে—যার যার এলাকায় সে সে দাপট দেখাবে। বৈশ্বিক রাজনীতি এখন গোত্রভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। মহাশক্তিরা নিজেদের এলাকায় যা খুশি করতে পারবে। আমেরিকা যদি বিনা বাধায় লাতিন আমেরিকার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করতে পারে, তাহলে চীনের অংশ তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের হাতও তো খুলে গেল।
চীনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতোমধ্যে জোরালো হচ্ছে কণ্ঠস্বর—তাইওয়ানের তথাকথিত প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযান চালাতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝংনানহাইয়ের নীতিনির্ধারকরা তাড়াহুড়ো করবেন না। ধীরে ধীরে চাপ বাড়ানোর কৌশলই এখনো পছন্দের। তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া ক্রমশ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে—এভাবেই এগোবে তারা। তবে বিশেষজ্ঞরা মানছেন, এই ধৈর্যশীল পদ্ধতি একসময় হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্তে রূপ নিতে পারে। হয়তো নিয়মিত মহড়ার আড়ালেই। ভেনেজুয়েলার ঘটনা তখন হয়ে উঠবে অনুমোদনপত্র, উস্কানি নয়।
দ্বিতীয় বার্তা: শাসক বদল হলেও ব্যবসা চলবে। পশ্চিমা বিশ্লেষকরা ব্যস্ত হিসাব কষতে—মাদুরো সরকার গেলে চীন তার ৪% তেল আমদানি হারাবে। চীনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হিসাবটাই ভুল। একবিংশ শতাব্দীতে চীন সর্বোপরি ব্যবসায়ী শক্তি—বাস্তববাদী। আদর্শের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি নির্ভরযোগ্যতা আর বাণিজ্যিক সুযোগ।
ইতিহাস তো এমন সাক্ষ্যই দিচ্ছে। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর ইরাকে প্রথম বড় তেল চুক্তি পেয়েছিল কোন দেশ? চীন। মিয়ানমারে অং সান সু চি’র আমলে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বেড়েছিল—সামরিক জান্তার সময়ের চেয়েও। সু চি তো পশ্চিমের চোখে ছিলেন গণতন্ত্রের নায়িকা। তাতে কী? এই ধরনটা পরিষ্কার: চীন ব্যবসা করে যে ক্ষমতায় আছে তার সঙ্গে। শর্ত একটাই—ক্ষমতা হতে হবে স্থিতিশীল, ব্যবসার জন্য খোলা।
ভেনেজুয়েলা নিয়ে বেইজিংয়ের আসল সমস্যা শাসন পরিবর্তনের ভয় নয়। সমস্যা এই ঝুলে থাকা অবস্থা। অনিশ্চয়তা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের শত্রু। মাদুরো-পরবর্তী একটা স্থিতিশীল সরকার—এমনকি শুরুতে চীনবিরোধী হলেও—অনেক বেশি সুবিধাজনক হতে পারে বর্তমান বিশৃঙ্খলার চেয়ে।
চীনা বিশেষজ্ঞদের কথায়, বেইজিংয়ের চিন্তা মাদুরো যাওয়া নিয়ে নয়। চিন্তা হলো তার পরের অবস্থা সামলানো। কারাকাসে একবার নতুন ব্যবস্থা বসে গেলে, সমঝোতা করতে চীনই প্রথম লাইনে থাকবে।
এই দিকে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করলেও, ভেনেজুয়েলা দখল করতে পারেনি। সেখানে উপরাষ্ট্রপতি এবং সমাজতন্ত্রী ডেলসি রোড্রিগুয়ে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার শাসক সমাজতান্ত্রিক দল হুগো শাভেজের পথে থাকারই অঙ্গীকার করেছে। বিরোধী কমিউনিস্ট ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদী শক্তি সরকারকে এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সমর্থন করেছে। ফলে চীন এখনো সেভাবে ধাক্কা খায়নি যে ভাবে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যম দেখাচ্ছে।
তৃতীয় বার্তা: আটলান্টিক জোটে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ব্রিটেনের তড়িঘড়ি এই অপহরণ নিয়ে অজ্ঞতার দাবি, স্পেনের তীব্র সমালোচনা—এসব চীনা পর্যবেক্ষকদের কাছে পরিষ্কার সংকেত। ওয়াশিংটনের একক সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কে টান ধরিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ১৯০২-০৩ সালের কথা। তখনও ভেনেজুয়েলা নিয়ে ইউরোপীয় শক্তি আর আমেরিকার বিরোধ হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুজভেল্ট তখন মনরো মতবাদ জোরালো করেছিলেন। তখন যেমন, এখনও তেমন—বিতর্ক শুধু পদ্ধতি নিয়ে নয়, মূল কৌশল নিয়েও।
পশ্চিমা জোটের এই ফাঁক চীনের কাছে সম্পদ। লাতিন আমেরিকায় কোনো সামরিক দুঃসাহসিকতার চেয়ে এই বিভাজনই বেইজিংয়ের জন্য অনেক বেশি কাজের। ইউরোপের সঙ্গে কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে বিবাদে জড়ানো আমেরিকা চীনের জন্য উপকারী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন ইউরোপীয় রাজধানীগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর করবে। নিজেকে তুলে ধরবে ওয়াশিংটনের চেয়ে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে।
এই হিসাবগুলো আসলে বড় একটা সত্য তুলে ধরছে। সমসাময়িক ভূরাজনীতি ঠান্ডা যুদ্ধের যুগ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। একসময় হাভানা থেকে হ্যানয় পর্যন্ত বিপ্লবী সরকারগুলোকে সোভিয়েত ইউনিয়ন সাহায্য করতো আদর্শের খাতিরে। এখন সেই আদর্শবাদ জায়গা ছেড়ে দিয়েছে লেনদেনের রাজনীতির কাছে।
বেইজিংয়ের বৈদেশিক নীতি এখনও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বুলি আওড়ায়, দক্ষিণ-দক্ষিণ সংহতির কথা বলে। কিন্তু কাজ করে ব্যবসায়িক হিসাব মেনে। প্রশ্ন এখন আর আদর্শ মেলে কিনা, তা নয়। প্রশ্ন হলো—বিনিয়োগ আর বাণিজ্যের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ দিতে পারবে কিনা।
ব্রেজনেভ যুগ থেকে এটা এক বিরাট বদল। তখন মস্কো আদর্শের খাতিরে দূরের মিত্রদের পেছনে সম্পদ ঢালতো—অর্থনৈতিক লাভের চিন্তা না করেই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন থেকে চীন শিখেছে—এই ধরনের প্রতিশ্রুতি টেকে না। আজকের বেইজিং প্রভাব বিস্তার করে অবকাঠামো বিনিয়োগ, বাণিজ্য চুক্তি আর আর্থিক সুবিধা দিয়ে—যেখান থেকে লাভ আসে। লাভ হুমকির মুখে পড়লে অবস্থান পাল্টে নেয়। আবেগের জায়গা নেই, আছে শুধু হিসাব।
এই হিসাবে মাদুরোর ক্ষতি মোটেও বড় কিছু নয়। ভেনেজুয়েলার তেল তো মাটির তলায় থেকে যাবে—প্রেসিডেন্ট ভবনে কে বসে তাতে কী। চীনের বিনিয়োগ গাঁথা আছে চুক্তিতে, যা ক্ষতিপূরণ ছাড়া ভাঙা সহজ নয় কোনো নতুন সরকারের পক্ষেই। বেইজিং নিজেকে আদর্শিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নয়, অপরিহার্য ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবেই তুলে ধরেছে। এই ভূমিকা ব্যক্তি নেতার চেয়ে বড়।
তাছাড়া চীনা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বলছেন, মাদুরো সরকার ক্রমশ অবিশ্বস্ত হয়ে উঠছিল। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক অস্থিরতা—ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বরং আরো দক্ষ সরকার—এমনকি শুরুতে চীনবিরোধী হলেও—শেষ পর্যন্ত চীনের স্বার্থেই বেশি কাজে আসতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেইজিং ইতোমধ্যে নানা সম্ভাব্য পরিস্থিতি মাথায় রেখে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ খুঁজে নিয়েছে।
এই বাস্তববাদ চীনের পুরো লাতিন আমেরিকা নীতিতেই দেখা যায়। বেইজিং সম্পর্ক গড়েছে আদর্শিক বর্ণালীর সব প্রান্তে—বামপন্থী সরকার থেকে শুরু করে ডানপন্থী সরকার পর্যন্ত। সাধারণ সূত্র একটাই—রাজনৈতিক মিল নয়, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা। লাতিন আমেরিকা দেয় পণ্য আর বাজার, চীন দেয় বিনিয়োগ আর শিল্পপণ্য। কারাকাসে কে বসলো, তাতে এই সূত্রের কিছু আসে যায় না।
মার্কিন পদক্ষেপ, যত অবৈধ আর অস্থিতিশীলকারীই হোক, এই ব্যবস্থার মূলে আঘাত করেনি। বরং চীনের অবস্থান শক্ত করতেই পারে। কীভাবে? দেখাচ্ছে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক আইন পরোয়া করে না, পুরনো মিত্রদেরও বিচ্ছিন্ন করতে পিছপা নয়। মার্কিন একতরফাবাদে ইউরোপের হতাশা বেইজিংয়ের জন্য সুযোগ—নিজেকে আরো ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার। চীনা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, তাৎক্ষণিক সংকট কাটবে, ভেনেজুয়েলায় নতুন ব্যবস্থা আসবে, আর বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবার শুরু হবে—হয়তো মাদুরোর সময়ের চেয়েও ভালো শর্তে।
এর মানে এই নয় যে চীন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান অপহরণ বা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন মেনে নিচ্ছে। জাতিসংঘে বেইজিং যা নিন্দা জানাবে, তা আন্তরিক। কিন্তু নিন্দা তো বিনা পয়সার—কিছু পাল্টায় না। উল্টোদিকে সামরিক হস্তক্ষেপ হবে ব্যয়বহুল, সন্দেহজনক ফল দেবে। চীনা বিশেষজ্ঞরা খোলাখুলি বলছেন: ভেনেজুয়েলা অনেক দূর, অস্থির, আর চীনের মূল স্বার্থের জন্য অপ্রয়োজনীয়—উল্লেখযোগ্য সামরিক ঝুঁকির যুক্তি দেয় না।
তাইওয়ানের উদাহরণও এখানে শিক্ষণীয়। চীনা বিশ্লেষকরা কারাকাস অভিযান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন নিজ এলাকায় কাজের ব্যাপারে। কিন্তু তারা জানেন তাইওয়ান প্রণালী আর দক্ষিণ আমেরিকার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। প্রথমটা সম্ভব, দ্বিতীয়টা চীনের সামরিক সক্ষমতা টেনে ধরবে—লাভ হবে নগণ্য। বেইজিং ভাবে দশক আর শতাব্দী ধরে, সংবাদের শিরোনাম ধরে নয়। ধৈর্যই তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
এই ঘটনা থেকে চীনা রাষ্ট্রকৌশলের যে চিত্র উঠে আসছে, তা ঠান্ডা যুদ্ধের যুগের ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এটা কোনো বিপ্লবী সংহতি বা আদর্শিক প্রতিশ্রুতির শক্তি নয়। এটা একটা বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য—যেখানে স্বার্থের হিসাব হয়, সম্পর্ক চলে লেনদেনের সূত্রে, কৌশলের কাছে আবেগ পরাজিত। মিত্র হারানো দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু বাজার হারানো অসহনীয়। তবে বাজারও, চীনা বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, খাপ খাইয়ে রাখা যায়।
বিশ্ব দক্ষিণ জুড়ে প্রতিবাদ চলুক, পশ্চিমা জোটে কূটনৈতিক টানাপোড়েন থাকুক—চীন দেখবে, হিসাব করবে, আর বিশৃঙ্খলার পর যা আসবে তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখবে। মাদুরোর পাশে ছুটে যাবে না। কারণ তা হবে ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ, আর সবচেয়ে বড় কথা—অপ্রয়োজনীয়। তেল তো বিক্রি হবেই, ক্রেতা লাগবে। অবকাঠামো চালাতে হবে, পরিচালক লাগবে। আর চীন তো থাকবেই—চেকবুক হাতে নিয়ে, শেষ পর্যন্ত যে জিতবে তার সঙ্গে ব্যবসা করতে।
এটাই ২০২৬ সালের ভূরাজনীতির নিয়ম। আদর্শের সংঘর্ষ নয়, স্বার্থের প্রতিযোগিতা। হৃদয় জয়ের লড়াই নয়, বাণিজ্যিক শর্ত নিয়ে দরকষাকষি। এই বাস্তবতায় চীন খাপ খাইয়ে নিয়েছে নির্মম দক্ষতায়। এটা অগ্রগতি নাকি নিন্দাবাদ, তা নির্ভর করে দেখার চোখের ওপর। তবে একটা বিষয় নিঃসন্দেহ—বেইজিং তার সযত্নলালিত বাস্তববাদকে বলি দেবে না হাজার মাইল দূরের কোনো পতিত মিত্রের সংহতির বেদিতে।
ড্রাগন শিখে গেছে—যুদ্ধে নামার আগে মুদ্রা গুনতে হয়।


