আজ, ২৪ ফেব্রুয়ারি, এফবিআই এর একজন প্রাক্তন স্পেশাল এজেন্ট, স্টিভ ফ্রেন্ড, একটি রিপোর্ট দেখিয়ে দাবী করেছেন যে এফবিআইয়ের অভ্যন্তরে এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত বিশাল সংখ্যক অপরাধের সেই অর্থে কোনো বিচারই হয়নি।
Just the News ওয়েবপোর্টালে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে যেখানে এফবিআইয়ের অভ্যন্তরীণ পেশাগত দায়িত্বের অফিসের একটি রিপোর্ট দেখিয়ে ফ্রেন্ড তুলে ধরেন যে এফবিআই এজেন্টদের অপরাধমূলক কাজকর্মের শাস্তি তো দূর বরং তাদের বেশীরভাগকেই স্ব স্ব কার্যে বহাল তবিয়তে রেখে দেওয়া হয়েছিল।
২০১৭ থেকে আজ পর্যন্ত প্রকাশিত এফবিআইয়ের শৃঙ্খলামূলক প্রতিবেদনগুলি পরিষ্কার দেখাচ্ছে যে সংস্থার মধ্যে মাদকের অপব্যবহার ও যৌণ অপরাধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ফ্রেন্ড নিজে ৬ ই জানুয়ারির ক্যাপিটাল রায়টের তদন্তে এফবিআই দ্বারা নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তিনি দুর্নীতির খবর প্রকাশের সাথে নিজের মতামত ব্যক্ত করে বলেছেন এফবিআই এজেন্টরা এখন অপরাধমূলক কর্মকান্ডকেও নিজেদের এক্তিয়ার ভাবা শুরু করে দিয়েছে।
তিনি বিশেষ বিশেষ কয়েকটি তথ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রচুর যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটে থাকলেও অপরাধীদের খুব সামান্য ক্ষেত্রেই একদিনের সাময়িক বরখাস্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মদ্যপান করে গাড়ি চালানো ও গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো ঘটনাতেও দোষীদের বড়জোর দুইমাসের সাময়িক বরখাস্ত করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, এক এজেন্ট নিজের কন্যা ও নাতনি কে যৌন নিপীড়নের ঘটনা নিজমুখে স্বীকার করলেও তাকে কাজ থেকে অপসারণ করা হয়নি। একই ঘটনা ঘটেছে আরেকজন এজেন্টের ক্ষেত্রেও যিনি নিজের মাদক সেবনের জন্য বারবার মাদক সংযুক্ত অপরাধের জন্য রাখা প্রমাণ লোপাট করত।
রিপোর্টে এও উল্লেখ করা হয় যে এফবিআই এজেন্টরা যখন খুশী নিজেদের হাতে অস্ত্র আইন তুলে নেয় ও আইনের অপব্যবহার করে, কিন্তু শাস্তিমূলক কোনো ব্যবস্থা তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা হয়না।
স্টিভ ফ্রেন্ড এফবিআইয়ের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সততা ও দায়িত্ববোধ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।