Close

কী ভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ দুই বিশ্বযুদ্ধের মতই দুনিয়াকে বদলাচ্ছে?

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে শুধু বড় প্রভাবই ফেলেনি বরং বিগত দুই বিশ্বযুদ্ধের মতন এর ফলে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেরও ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।

রুশ ইউক্রেন যুদ্ধ দুই বিশ্বযুদ্ধের মতই দুনিয়াকে বদলাচ্ছে কীভাবে?

ছবি সত্ত্ব: রাশিয়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রক

এখনো সরাসরি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়নি। তবুও বিশিষ্টজনদের অনেকে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে বিশ্ব যুদ্ধের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ১৬ জানুয়ারি পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাভিয়েৎস্কি মার্কিন-নেতৃত্বাধীন ন্যাটো দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন রাশিয়ার সাথে যুদ্ধে ইউক্রেনের পরাজয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর কারণ হতে পারে। মোরাভিয়েৎস্কি তাই দাবি করেছেন যে ইউক্রেনের পরাজয় ঠেকাতে যেন পশ্চিমারা ইউক্রেনকে অবিরত অস্ত্র সরবরাহ করে যায়।

বিশিষ্ট ফরাসি ঐতিহাসিক এবং নৃতত্ত্ববিদ ইমানুয়েল টড ২০০২ সালে “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়েছে” নামক একটি বইও লিখে ফেলেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে টড বলেন “আমরা এখনো অস্ত্র সরবরাহ করে চলেছি। আমরা নিজেদের সামনে না আনলেও, আমরা রুশদের হত্যা করছি। এটাই সত্য যে সর্বোপরি ইউরোপীয়রা আর্থিকভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বাস্তবিকভাবে যুদ্ধে আমাদের প্রবেশকে আমরা অনুভব করছি মুদ্রাস্ফীতি এবং (নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের) অভাবের মধ্যে দিয়ে।”

এদিকে ইউক্রেনকে যুদ্ধ চালাবার খরচ জোগাতে গিয়ে এবং রাশিয়ার জ্বালানির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর জন্য মুদ্রাস্ফীতি সহ বিভিন্ন আর্থিক সমস্যায় নিমজ্জিত হয়েছে আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলি। ফলে ইউরোপ, আমেরিকার দেশ গুলোর ইউক্রেন যুদ্ধে পরোক্ষে জড়িয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা মুখ খুলেছেন। হচ্ছে যুদ্ধ বিরোধী সমাবেশও।

১৯শে ফেব্রুয়ারি, একটি ফেসবুক পোস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনার করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে ব্রাসেলস জ্বালানি খাতে যে বিধিনিষেধ লাগু করেছে তার ফলে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, “রোগের নাম মুদ্রাস্ফীতি, এবং ভাইরাসটির নাম ব্রাসেলসের নিষেধাজ্ঞা”। অরবান এই নিষেধাজ্ঞাগুলিকে “ব্রাসেলসের যুদ্ধ নীতির অস্ত্র” হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়াকে লক্ষ্য করে এই অস্ত্রটি ব্যবহার করতে গিয়ে, উলটে নিজেরই ক্ষতি করেছে।

গত দুই বিশ্বযুদ্ধে যেভাবে বদলে ছিল দুনিয়া

বিগত দুটি বিশ্বযুদ্ধে একদিকে যেমন লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এবং পঙ্গু হয়, তেমনি অন্যদিকে বিশ্বে আধিপত্যকারি সাম্রাজ্য গুলোর পতন হয়। একই সাথে বিপ্লব দেখা দেয় ও নতুন কিছু দেশের জন্মও হয়। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর জারের রুশ সাম্রাজ্য, কাইজারের জার্মান সাম্রাজ্য, অস্ট্রো-হাঙ্গেরি সাম্রাজ্য ও খলিফার তুর্কী সাম্রাজ্যের পতন হয়। এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন অঞ্চল গুলো স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে ফ্রান্স ব্রিটেন নেতৃত্বাধীন জোট জয়ী হলেও, তারা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে যায়। উৎপাদন-বাণিজ্যের বদলে অনেক বেশী যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে তারা আটকে যায়। ফলত এই সুযোগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে জাপান এবং আমেরিকা। যুদ্ধের প্রয়োজনে ইউরোপীয় মহাশক্তিরা নিজেদের মুদ্রার সাথে সোনার সম্পর্ক ত্যাগ করে। ফলত তাদের মুদ্রা পরিণত হয় ফিয়াট কারেন্সিতে। আর এই সময় আমেরিকা সোনার বিনিময়েই পণ্য রফতানি জারি রাখে। ফলত ইউরোপীয়দের সোনা জমা হয় আমেরিকায়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুধু উন্নতিই হয়নি, অবশেষে ১৯৪৪ সালে বেটনউডস চুক্তির মধ্যে দিয়ে মার্কিন ডলারকেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা মান হিসেবে স্বীকার করে নেয় ইউরোপীয় মহাশক্তিরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলে ফরাসি, ব্রিটিশ, জার্মান,জাপান সাম্রাজ্যের শুধু পতন নয়, প্রত্যক্ষভাবে উপনিবেশ রাখার ব্যাপারটাই উঠে যায়। জন্ম হয় একাধিক সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রের। এখন মহাশক্তিদের নীতি হয়ে যায়, বাইরে থেকেই বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এই সদ্য স্বাধীন স্বার্বভৈম রাষ্ট্রগুলোকে আর্থিক এবং রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। গবেষকরা যাকে বলেন “নয়া উপনিবেশবাদ”।

ডলারের দাদাগিরি কীভাবে?

যে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যত বেশী, যুক্তি অনুযায়ী তার মুদ্রারই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাধান্য পাওয়ার কথা। কিন্তু যার বেশী পেশী শক্তি আছে, সে যুক্তি মানা জরুরী বলে মনে করেনা প্রায়শই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সুযোগে ফ্রান্স-ব্রিটেনের থেকে মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী হলেও, ব্রিটিশরাই ছিলো তামাম বিশ্বের এক বিরাট অংশের স্বঘোষিত অধিশ্বর! উপনিবেশগুলোর বেশীরভাগই ছিলো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পদতলে। যদিও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৩৮ সালে বিশ্ব জিডিপির ৪৫% উৎপাদন করতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ১১% এবং ব্রিটেন ৯%।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ব্রিটেন ব্যাপক বাণিজ্য ঘাটতি এবং সোভিয়েতের উত্থানের আতঙ্কে মার্কিনিদের আধিপত্য মেনে নিতে বাধ্য হল। ১৯৪৪ সালের বেটনউডস চুক্তির মধ্যে দিয়ে মহাশক্তিধর দেশগুলোর অধিকর্তা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিষ্ঠা পায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ডলার হয়ে যায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা। মার্কিন ডলার ছিল সোনার সাথে বাঁধা। মার্কিনিদের সামরিক ক্ষমতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ডলার হল ভরসা যোগ্য।

বিভিন্ন দেশের বিদেশী মুদ্রা ভান্ডার ভরে উঠতে থাকে ডলারে। ফলে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডলারের দামও যায় বেড়ে। ফলত ডলারের তুলনায় অন্যান্য দেশের মুদ্রা সস্তা হয়ে যাওয়ায় ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ, জাপান, চীন, ভিয়েতনামের মত এশীয় দেশগুলো ব্যাপক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি বাড়াতে সক্ষম হয়। ইউরোপীয়রা আবার ডলারের বিনিময়ে সোনা ফেরত নিতে শুরু করে। ১৯৭০-এ মার্কিন জিডিপি বিশ্ব জিডিপির শতাংশ হিসেবে কমে হয়ে দাঁড়ায় ২৮%।

১৯৭১ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধে বিধ্বস্ত মার্কিন অর্থনীতি ডলারের সাথে সোনার সংযোগ ছিন্ন করে। মার্কিন কারেন্সিও পরিনত হয় ফিয়াট কারেন্সিতে। যা নিক্সন শক নামে পরিচিত। তবুও মার্কিন ডলার তার আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

মার্কিনি  শিল্পপতিরা তুলনামূলক সস্তা মুদ্রার দেশে কারখানা স্থানান্তর করে।মার্কিনিরা নিজের দেশে মূলত কম দামে আবাসন কিনে বেশী দামে বিক্রি, শেয়ার মার্কেটের ফাটকাবাজি, সৌদি বা ওপেককে শুধুমাত্র ডলারের বিনিময়ে তেল বিক্রিতে বাধ্য করা, ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ডলারের উচ্চ মূল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়। সোনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও, ডলার ফাটকার উপর নির্ভরশীল হলেও, প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসেবে ডলার তার আধিপত্য ধরে রাখে তার বাণিজ্যের বিস্তার এবং ভূরাজনৈতিক সামরিক ক্ষমতার জোরে। আমেরিকার প্রকৃত উৎপাদন ক্ষমতার থেকে তার মুদ্রার জোর বেশী হয়ে দাঁড়ায়। ফলত স্রেফ ডলার নামক কাগজ ছাপিয়ে মার্কিনিরা শুষে নিতে পারে দুনিয়ার তামাম সম্পদ। ডলার ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যে কোনো দেশকে ভাতে মারার ব্যবস্থা করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

হুমকির মুখে ডলার অধিপত্য

৪ঠা জানুয়ারী ২০২২ ভয়েস অফ আমেরিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ কনসালটেন্সি সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) পূর্বাভাস দিয়েছে চীনের জিডিপি ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ৫.৭% এবং তারপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ৪.৭% হারে বৃদ্ধি পাবে। এর পূর্বাভাস বলছে যে চীন, এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী  মার্কিন অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে৷

ক্রেডিট বীমা সংস্থা অয়লার হার্মিস একই রকম পূর্বাভাস দিয়েছে৷ যদিও ১৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখে প্রকাশিত তথ্য বলছে যে বিশ্বের জিডিপিতে প্রধান অবদান চীনের, ১৮.৫৬%। আমেরিকার অবদান ১৫.৬৯%। স্বাভাবিক ভাবেই চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, তার বাণিজ্য বিস্তার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাজার চীনা মুদ্রা ইউয়ানকেই দাবি করে। বিশেষত শেয়ার বাজারের ফাটকাবাজির উপর চীনা সরকারের কড়া নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবিক উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল চীনা অর্থনীতি, ইউয়ানকে ফাটকা নির্ভর ডলারের থেকে অনেক বেশী নির্ভরযোগ্য করে। কিন্তু যার পেশীর শক্তি বেশী সে বাজারের যুক্তি মেনে না চলার পরিকল্পনা করতেই পারে।

দক্ষিণ গোলার্ধের অবাধ্যতা

গত ২৪শে ফেব্রুয়ারী ২০২২, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সরবরাহ করা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার ফলে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক ভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন ফোন করেন মার্কিন সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব এবং ইউনাইটেড আরব আমিরাতকে।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে সৌদি এবং আমিরাত রাষ্ট্রপতি বাইডেনের ফোন ধরেনি। এও জানা যায় যে তারা বাইডেনের ফোন না ধরলেও রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেছেন। পরবর্তীতে উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি সঙ্কট সামাল দেওয়ার মার্কিন দাবিও নাকচ করে আরবরা। মার্চ মাসেই আরবরা জানিয়ে দেয় আর শুধুমাত্র ডলারে নয় এবার চীনা মুদ্রা ইউয়ানেও তারা তেল বিক্রি করবে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে পশ্চিমারা আন্তর্জাতিক লেনদেনের সবচেয়ে বড় মাধ্যম মার্কিন প্রতিষ্ঠান সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ইন্টারব্যাঙ্ক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন বা সুইফট থেকে রাশিয়াকে বিতাড়নের পরে সুইফটের চীনা বিকল্প সিআইপিএস এর দিকে ঝুঁকেছে। সুইফটের তুলনায় সিআইপিএস অত্যন্ত ছোট। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মানতে নারাজ দেশ গুলো মূলত সিআইপিএস এর দিকে ঝুঁকছে।

চীনের সাথে সীমানা বিরোধের কারণে ভারত মার্কিন ঘনিষ্ঠ হলেও, মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে রাশিয়ার থেকে জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি অব্যাহত রেখে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কোনো পক্ষেই ভারত যোগ দেবেনা। রাষ্ট্রপুঞ্জের ভোটাভুটিতে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে চীন এবং ভারত একই সাথে ভোট দানে বিরত থেকেছে। নেহরুর জোট নিরপেক্ষতার নীতির একটি কড়া সংস্করণ গ্রহণ করেছে ভারত সরকার।

চীন, ভারত,আরব দুনিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিরপেক্ষতার নীতি ঘোষণা করেছে। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাবার মার্কিন দাবি অগ্রাহ্য করেছে। এমন কি ইজরায়েল আর দক্ষিণ কোরিয়ার মত মার্কিন মিত্র দেশও ইউক্রেনে অস্ত্র পাঠাতে গরিমসি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে এই দেশগুলোর নিরপেক্ষতাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের কাছে অবাধ্যতা।

তাই, ১৮ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে পশ্চিমারা সুস্পট ভাবে জানিয়েছে যে “নিরপেক্ষতা” তারা পছন্দ করছে না। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের একদিন আগে, ফরাসি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স ২৪ অভিযোগ করে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যে, “গত বছর ধরে, বেশিরভাগ দক্ষিণ গোলার্ধের দেশ ইউক্রেনের যুদ্ধের বিষয়ে শিক্ষার্থী সুলভ নিরপেক্ষতার অবস্থান গ্রহণ করেছে”।

ফরাসি বুদ্ধিজীবী ইমানুয়েল টড বলেছেন, “পশ্চিমি সংবাদমাধ্যম গুলো শোচনীয়রকম ভাবে হাস্যকর হয়ে উঠেছে। তারা অবিরত বলে যায় ‘রাশিয়া কোনঠাসা’ হয়েছে। কিন্তু ইউনাইটেড নেশনস এ ভোটের সময় দেখা যায় ৭৫% দেশ আর পশ্চিমীদের অনুসরণ করেনা।”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রত্যক্ষ উপনিবেশিক যুগের অবসান হয়ে অপ্রত্যক্ষ নয়া উপনিবেশিক যুগের সূচনা হয়। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে মার্কিন কেন্দ্রীয় একমেরু বিশ্বের বদলে যে বহুমেরু বিশ্বের সূচনা হয়েছে, এবং চীন যে ভাবে নমনীয় ঋণের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া দেশ গুলোর পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দান করছে—যদিও এই সাহায্য ঋনের ফাঁদ কি না সেই বিষয়ে বিতর্ক আছে—তা নয়া উপনিবেশীক ব্যবস্থার পতন ঘটায় কি না সেটাই দেখার।

সৌম্য মন্ডল একজন আর্থ-সামাজিক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি ইস্ট পোস্ট বাংলায় মুখ্য সম্পাদক হিসাবে কর্মরত। মূলত উদীয়মান বহু-মেরুর বিশ্বের নানা ঘটনাবলীর তিনি বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করেন।

Leave a comment
scroll to top