Close

ট্যুইটার-এর ব্যবসা বন্ধের সরকারি হুমকি, জানালেন জ্যাক

ভারতে ট্যুইটার-এর ব্যবসা বন্ধ করার হুমকি দেয় ভারত সরকার। এমনটাই জানালেন ট্যুইটার-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডর্সি।

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মইক্রোব্লগিং সাইট ট্যুইটার-এর (Twitter) সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডর্সি (Jack Dorsey)। সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে এমনিই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জ্যাক।
২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লিতে কৃষক আন্দোলন চলাকালীন, ভারত সরকারের তরফে ট্যুইটার-এর প্রায় ১২০০ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যায়। খালিস্তান যোগ রয়েছে বলে দাবি করেও সরকারের তরফে একাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বলা হয় বলে অভিযোগ।

তার আগে, আরও ২৫০টি অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। সেই সময় ট্যুইটার-এর তরফে একাধিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়াও হয়। পরে তার মধ্যে অনেক অ্যাকাউন্ট আবার চালুও করে দেওয়া হয়। সেই নিয়েই কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত বাধে ট্যুইটারের। কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রককে সেই সময় ট্যুইটার জানায়,অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া বাক স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেই মনে করে তাঁরা।

এই সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে ট্যুইটারের CEO থাকাকালীন কোনও দেশের সরকার তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল কিনা জানতে চাওয়া হয়। উত্তরে জ্যাক জানান, কৃষক আন্দোলন চলাকালীন সেই নিয়ে পোস্ট দেওয়া একাধিক অ্যাকাউন্ট এবং সরকারের সমালোচক বলে পরিচিত সাংবাদিকদের অ্যাকাউন্ট বন্ধের একাধিক চাপ এসেছিল।


তিনি আরও বলেন,” অনুরোধের মর্মার্থ এমন ছিল যে, ভারতে ট্যুইটার-এর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে, যা কিনা আমাদের জন্য ব্যবসার বড় ক্ষেত্র। বলা হয়, ‘তোমাদের কর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হবে’, এবং তা করাও হয়। বলা হয়, ‘নির্দেশ না মানলে তোমাদের দফতর বন্ধ করে দেব’। এখানে ভারতের কথাই বলছি, যা কিনা একটি গণতান্ত্রিক দেশ।”

তবে ট্যুইটার-এর বর্তমান কর্ণধার, ইলন মাস্কও ইতিপূর্বে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত নীতি নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। চলতি বছর এপ্রিল মাসে ইলন মাস্ক জানান, ট্যুইটার কর্মীদের জেলে পাঠানোর চেয়ে ভারত সরকারের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ মেনে চলাই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় তাঁর। ২০২১ সালের নয়া তথ্য-প্রযুক্তি নীতি নিয়েই এমন মন্তব্য করেন মাস্ক, যাতে নিয়ম না মানলে জেল হেফাজতের নিদান রয়েছে।

এছাড়াও, ২০২১ সালের মে মাসে বিজেপি নেতাদের কিছু পোস্টকে ভুল তথ্য বলে চিহ্নিত করে ট্যুইটার। তার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল দিল্লি এবং গুরুগ্রামে ট্যুইটার-এর দফতরে হানা দেয়। নোটিস ধরানো হয় তাদের। তাই জ্যাক বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রকে নিশানা করায় শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর জ্যাকের দাবি নস্যাৎ করেছেন। তাঁর দাবি, জ্যাকের অধীনে ট্যুইটার লাগাতার ভারতের আইন লঙ্ঘন করছিল। কখনও কখনও ভুয়ো তথ্যও ছড়াচ্ছিল। জ্যাক মিথ্যে কথা বলছেন বলেও দাবি করেছেন রাজীব।

Leave a comment
scroll to top