Close

শিবসেনা কোন্দল: রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অসন্তুষ্ট, নির্বাচন কমিশনের দায় ঝাড়ার চেষ্টা

শিবসেনা দ্বন্দ্ব সংক্রান্ত মামলায় মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপালের আস্থা ভোট ডাকাকে তীব্র ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের।

শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে গেল ১৪টি বিরোধী রাজনৈতিক দল।

গত বুধবার, ১৫ই মার্চ, সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির আস্থা ভোট আহ্বান জানানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই আস্থা ভোটের পরেই উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ) সরকারের পতন ঘটে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি হিমা কোহলি, এমআর শাহ, কৃষ্ণ মুরারি ও পিএস নরসিমার সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ মতামত দিয়েছে যে রাজ্যপালরা সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার জোরে তারা কোনো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ উল্লেখ করে আস্থা ভোট ডাকতে পারেনা।

বুধবারের শুনানির সময়, সুপ্রিম কোর্ট আস্থা ভোট ডাকা নিয়ে প্রাক্তন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের পদক্ষেপকে তিরস্কার করে এবং বলে যে একটি নির্বাচিত সরকারের পতনের জন্য তার ক্ষমতার ব্যবহার ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয় বিশেষত সেই সরকার যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ ও কার্যকরী ছিল।

শিবসেনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ সংক্রান্ত মামলার শুনানিই চলছে এখন আর সেই পরিপ্রক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ। এর আগে, ২০শে ফেব্রুয়ারি, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একনাথ শিন্ডে গোষ্ঠীকেই আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি ও শিবসেনার প্রতীক ব্যবহার করতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান।

শিবসেনার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ ২১শে জুন, ২০২২-এ শুরু হয়েছিল, যখন শিন্ডে গোষ্ঠী, ঠাকরে গোষ্ঠী থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং অভিযোগ জানায় যে উদ্ধবের নেতৃত্বে দলটি স্বীয় সংবিধানকে অস্বীকার করে চলেছে। এর পরেই উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দের সূত্রপাত হয়।

অন্যদিকে, বুধবার নির্বাচন কমিশন একটি হলফনামায় সুপ্রিম কোর্টকে বলেছে যে ১৭ই ফেব্রুয়ারি শিন্ডে গোষ্ঠীকে শিবসেনার নাম এবং প্রতীক বরাদ্দ করার যে সিদ্ধান্ত তা তারা সংবিধান কর্তৃক দেয় ক্ষমতার মধ্যে থেকেই করেছে। কমিশন আবেদন করেছে যে এটি বর্তমান মামলার জন্য একটি ফাংটাস অফিশিও হয়ে উঠেছে (ইতিমধ্যেই তার দায়িত্ব পালন করেছে) তাই কোর্টে উদ্ধব গোষ্ঠীর আবেদনে তাদের যেন আর কোনো পক্ষ হিসেবে যোগ না করা হয়।

লেখক

Leave a comment
scroll to top