Close

আজ যে বিলকিস কাল সে আমাদের কেউ, সুপ্রিম কোর্ট

বিচারপতি কে এম জোসেফ এবং বি ভি নাগার্থনার একটি বেঞ্চ ১১ জন দোষীর শর্তাধীন মুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং বলেছিলেম যে অপরাধের গুরুত্ব রাষ্ট্র বিবেচনা করতে পারত।

কেন্দ্র এবং গুজরাট সরকার মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টকে বলেছে যে তারা বিলকিস বানো মামলায় ২৭শে মার্চের আদেশের পুনর্বিবেচনার জন্য একটি আবেদন করতে পারে। প্রসঙ্গত, ২৭শে মার্চ শীর্ষ আদালত এই মামলায় দোষী সাব্যস্তদের সাত তাড়াতাড়ি সাজা মকুবের বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী বিচার পদ্ধতির জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন।

বিচারপতি কে এম জোসেফ এবং বি ভি নাগার্থনার একটি বেঞ্চ ১১ জন দোষীর শর্তাধীন মুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এবং বলেছিলেম যে অপরাধের গুরুত্ব রাষ্ট্র বিবেচনা করতে পারত।

এতে বলা হয়েছে, “একজন গর্ভবতী মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। আপনি নির্যাতিতার মামলাকে মান্যচলিত ধারা ৩০২ (হত্যা)-র সাথে তুলনা করতে পারবেন না। আপনি যেমন কমলালেবুর সাথে আপেলের তুলনা করতে পারবেন না, তেমনি গণহত্যাকে একক হত্যার সাথে তুলনা করা যাবে না। অপরাধ সাধারণত সমাজ এবং সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘটে থাকে। অসমদের সাথে সমানভাবে আচরণ করা যায় না।” “প্রশ্ন হল সরকার কি সে বিষয়ে মনযোগী এবং এই শর্তাধীন মুক্তির বিষয়টির ভিত্তি কী দিয়ে তৈরি,” বেঞ্চ বলেছে, “আজ এটি বিলকিস কিন্তু আগামীকাল এটি যে কেউ হতে পারে৷ এটা আপনি বা আমি হতে পারি,. আপনি যদি সাজা মকুবের পেছনে আপনাদের কারণগুলি না দেখান, তবে আমরা আমাদের নিজস্ব সীদ্ধান্ত ঘোষনা করব,”২রা মে বেঞ্চ বিলকিস বানো মামলায় দোষীদের সাজা মকুবের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলির নিষ্পত্তির দিন ধার্য করেছিল। সমস্ত দোষীদের থেকে জবাব চাওয়া হলেও তারা কেউ তা দাখিল করেনি।

কেন্দ্র এবং রাজ্যকে পুনর্বিবেচনার আবেদন করার বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

২৭ শে মার্চ, বিলকিস বানোর গণধর্ষণ এবং ২০০২ সালের গোধরা দাঙ্গার সময় তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে একটি “ভয়াবহ” কাজ বলে অভিহিত করে, সুপ্রিম কোর্ট গুজরাট সরকারকে জিজ্ঞাসা করেছিল আর পাঁচটা খুনের মামলার নিষ্পত্তি যে মানদন্ডের ভিত্তিতে হয় তা কি এই ১১ জনের ক্ষেত্রে মানা অনুসরণ করা হয়েছিল।

বিলকিস বানোর দায়ের করা একটি আবেদনে ভিত্তিতে আদালত কেন্দ্র, গুজরাট সরকার এবং অন্যদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া চেয়েছিল। বানো এই মামলায় ১১ আসামির সাজা মকুবকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

গত বছরের ১৫ই আগস্ট গুজরাট সরকার এই ১১ জনকে মুক্তি দেয়।

শীর্ষ আদালত সিপিআই(এম) নেত্রী সুভাষিনী আলী, একজন স্বাধীন সাংবাদিক রেবতী লাউল, , লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রূপ রেখা ভার্মা, তৃনমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্ররা দোষীদের মুক্তির বিরুদ্ধে PIL দায়ের করেন।

২১ বছর বয়সী বানো পাঁচ মাসের গর্ভবতী ছিলেন যখন তিনি গোধরায় ট্রেন পোড়ানোর ঘটনার পরে দাঙ্গা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় গণধর্ষণের শিকার হন। নিহত পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে তার তিন বছরের মেয়েও ছিল।

Leave a comment
scroll to top