Close

তাইওয়ান প্রশ্নে ফের চীনের মুখোমুখি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

তাইওয়ান প্রশ্নে চীনকে সামরিক হুমকি দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত কয়েকদিনে চীনের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংঘাত এই বিষয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি

ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের প্রভাবশালী সদস্য এবং ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান মাইকেল ম্যাককলের নেতৃত্বে একটি দ্বিদলীয় প্রতিনিধিদল তিন দিনের সফরে শুক্রবার, ৭ই এপ্রিল তাইওয়ান পৌঁছায়। সেখান থেকে ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ম্যাককল বলেন, যদি কমিউনিস্ট-শাসনাধীন চীন তাইওয়ানে হামলা চালায় তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেজিংয়ের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।

চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র চু ফেং লিয়ান গতকালই (শুক্রবার) জানান, মাতৃভূমির একীকরণ অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে! তিনি তাইওয়ান ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি কর্তৃপক্ষকে জানান, “চীন কোনো ধরনের ‘তাইওয়ান বিচ্ছিন্নতা’ কার্যক্রমের সুযোগ দেবে না। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ও ‘তাইওয়ান বিচ্ছিন্নতার’ কার্যক্রম রোধ করার জন্য এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা নিশ্চিত করার জন্য চীন কড়া ব্যবস্থা নেবে”।

ম্যাককল তাইওয়ানের মাটিতে সেনা মোতায়েনের কথা বললেও যুদ্ধে মার্কিন জনগণের সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেননি। তিনি এও বলেন, সব সময় যুদ্ধই সর্বশেষ উপায়।

চু যুক্তরাষ্ট্রকে উদেশ্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ‘এক চীন নীতি’ ও ‘ চীন-যুক্তরাষ্ট্র তিনটি যৌথ ইশতাহার’ মেনে চলা এবং তাইওয়ান বিষয়ে সাবধানে আচরণ করা।

তিনি বলেন, ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি কর্তৃপক্ষ অবিরত ‘এক চীন নীতিকে’ চ্যালেঞ্জ করে আসছে। তাদের এমন আচরণ তাইওয়ানকে যুদ্ধের বিপদে ঠেলে দেবে এবং তাইওয়ানে বসবাস করা চীনা জনগণের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় চীন থেকে পলাতক পশ্চিমা-মদদপুষ্ট শাসক চিয়াং কাইশেক তাইওয়ান দ্বীপে গিয়ে “প্রজাতান্ত্রিক চীন” প্রতিষ্ঠা করেন, যা পশ্চিমাদের দ্বারা স্বীকৃত হয়। কিন্তু ১৯৭১ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন জাতি সঙ্ঘের সদস্য হওয়ায় ও তারপরে মার্কিন সরকারের বেজিং এর সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদী দ্বীপটি তাইওয়ান হিসাবে বিশ্বের দরবারে স্থান নিতে চাইলেও বেশির ভাগ দেশই তাকে স্বীকৃতি দেয়নি।

তাইওয়ানকে চীন নিজের ভূখণ্ড বলে মনে করে এবং আলাদা দেশ হিসেবে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ রাখার বিষয়টি বেজিং ভালো চোখে দেখে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে মনে করে কিন্তু তাইওয়ানের অভ্যন্তরীন বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে সামরিক সহায়তা করে।

সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইন-ওয়েন আমেরিকা সফর করেছেন এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির সঙ্গে বৈঠক করেন। এর জবাবে চীন তাইওয়ান প্রণালীতে গতকাল (শনিবার) থেকে তিন দিনের যুদ্ধমহড়া শুরু করেছে। এই মহড়াকে তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা বলে উল্লেখ করেছে বেজিং।

লেখক

Leave a comment
scroll to top