Close

ঈশ্বর দ্রোহীতার এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে পাকিস্তানে গ্রেফতার চীনা ইঞ্জিনিয়ার

ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগে এক চীনা ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে কোমিলা পুলিশ, পাকিস্তান। অভিযোগ সন্ত্রাসবাদেরও।

https://pbs.twimg.com/media/Ft45j5RacAYkCRD?format=jpg&name=900x900

গত সোমবার,  ১৭ই এপ্রিল, ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগে পাকিস্তানের  এক চীনা ইঞ্জিনিয়ারকে গ্রেফতার করেছে কোমিলা পুলিশ, জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন। এছাড়াও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাকে।

চীনা নাগরিককে পকিস্তানের পিনাল কোড ২৯৫ সি বা ঈশ্বর দ্রোহীতা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৭নং ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। চীনা ইঞ্জিনিয়ারের নাম মিস্টার তিয়ান বলে জানা যাচ্ছে। তিনি ডাসু হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্টে ভারি যন্ত্রপাতির দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত একজন ইঞ্জিনিয়ার। এই প্রকল্পটি উত্তর পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনের কোহিস্তানে অবস্থিত। সেনার হেলিকপ্টারে অভিযুক্তকে ডাসু থেকে ২০০ কিমি দূরের অ্যাবোটাবাদে নিয়ে যায় পুলিশ।

রমজান মাসে কাজের দেরি হওয়া নিয়ে পাকিস্তানি শ্রমিকদের সাথে তিয়ানের বিরোধ বাধে। নামাজ পড়ে বাকি শ্রমিকরা কাজে ফিরলেও, গুলিস্তান এবং ইয়াসির নামে দুজন ড্রাইভারের ফিরতে দেরি হওয়ায় তাদের সাথে মিস্টার তিয়ানের বচসা হয়। এর পর দুই জন ড্রাইভার চীনা ইঞ্জিনিয়ারের উপর ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগ আনে। এই খবর আসে পাশের এলাকায় ছড়িয়ে যায়। মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা করে ভীড় জামনো হয় বলে জানা যাচ্ছে। এর পর হইহট্টগোলে  শ্রমিকদের ভীড় জমা হয় এবং মিস্টার তিয়ানের উপর চড়াও হয়। পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি চলতে থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাওয়ায় গুলি চালিয়ে মিস্টার তিয়ানকে উদ্ধার এবং গ্রেফতার করে। স্থানীয় জনতার একাংশ কারাকোরাম হাইওয়ে অবরোধ করে।মিস্টার তিয়ান ঠিক কি বলেছে তার কোনো রেকর্ড বা ভিড়িও রেকর্ড়িং না থাকলেও, শ্রমিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত ২০২১ সালের জুলাই মাসে ডাসু প্রকল্পে কর্মরত চীনা নাগরিকদের বাসে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এই ঘটনায় ৯ জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয় এবং ১৪ জন গুরুতর ভাবে আহত হয়।

পাকিস্তানের পিনালকোড ২৯৫ সি বা ঈশ্বর দ্রোহীতার মামলায় সর্বোচ্চ মৃত্যু দন্ড পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এখনো পর্যন্ত পাকিস্তানের ইতিহাসে একজনকেও ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগে মৃত্যু দন্ড দেওয়া হয়নি। সমস্ত অভিযোগই উচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। কিন্তু ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগে উন্মত্ত জনতার হাতে এখনো পর্যন্ত ৮৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

২০২১ সালে শিয়ালকোটে এক শ্রীলঙ্কার নাগরিক ফ্যাক্টরি ম্যানেজার যিনি শ্রীলঙ্কার নাগরিক তাকে উন্মত্ত জনতা ঈশ্বর দ্রোহীতার অভিযোগে পিটিয়ে খুন করে।

Leave a comment
scroll to top