Close

হাতে চাঁদ পেল ভারত; চন্দ্র পৃষ্ঠে সফল অবতরণ চন্দ্রযান-৩-এর

চাঁদের মাটিতে পা রাখলো চন্দ্রযান-৩। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) এবং সারা বিশ্ব জুড়ে ভারতীয়রা এই কৃতিত্ব উদযাপন করেছে।

চাঁদের মাটিতে পা রাখলো চন্দ্রযান-৩। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) এবং সারা বিশ্ব জুড়ে ভারতীয়রা এই কৃতিত্ব উদযাপন করেছে।

চাঁদের মাটিতে পা রাখলো চন্দ্রযান-৩। ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ISRO) এবং সারা বিশ্ব জুড়ে ভারতীয়রা এই কৃতিত্ব উদযাপন করেছে। দেশের এই কৃতিত্ব যা চাঁদে একটি মহাকাশযান সফলভাবে অবতরণ করার ভিত্তিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের পরে ভারতকে চতুর্থ দেশ হিসেবে গণ্য করছে। ইভেন্টটি ISRO তার ইউটিউব পেজে লাইভ স্ট্রিম করেছে। চন্দ্রযান-৩ মিশন ঐতিহাসিকভাবে প্রথম চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করেছে। ল্যান্ডার মডিউলটি স্পর্শ করার জন্য, ISRO একটি স্বয়ংক্রিয় ক্রম সক্রিয় করে, একটি অ্যালগরিদমকে ট্রিগার করেছে যা মহাকাশযানটি নির্ধারিত স্থানের উত্তরে চলে যাওয়ার পরে এটিকে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণে সহায়তা করে।

চন্দ্রযান-৩ ল্যান্ডারটি প্রায় ২ মিটার লম্বা এবং এর ভর মাত্র ১৭,০০ কেজির কিছু বেশি। চন্দ্র দক্ষিণ মেরু যা জলের বরফযুক্ত একটি অঞ্চল, অধ্যয়ন পরিচালনার জন্য ল্যান্ডার এবং রোভারের একসাথে ছয়টি পেলোড রয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতের চাঁদ অভিযানের জন্য এই পরীক্ষা নিরীক্ষা অক্সিজেন, জ্বালানী এবং জলের উৎস হতে পারে। গত ১৮ই আগস্টে, ISRO তার উদ্বোধনী ডিবুস্টিং অপারেশন সফলভাবে সম্পাদন করে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছে। এর ফলে কক্ষপথটি ১১৩কিমি x ১৫৭কিমি পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

প্রপালশন মডিউল থেকে ল্যান্ডার মডিউল আলাদা করার একদিন পরে এই অপারেশনটি হয়েছিল। এর পরে, ২০ আগস্ট, ISRO ল্যান্ডার মডিউলটির জন্য ডিবুস্টিংয়ের সমাপ্তি পর্যায় পরিচালনা করে, এর কক্ষপথকে ২৫কিমি x ১৩৪কিমি এ সামঞ্জস্য করে। অবতরণের আগের দিনগুলিতে ভারতকে প্রত্যাশা এবং উত্তেজনা গ্রাস করেছিল। চন্দ্রযান-৩-এর অবতরণ নিয়ে মন্দির, মসজিদ এবং গির্জা প্রার্থনায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যদিও চন্দ্রাভিযান কে কেন্দ্র করে ধর্মীয় টানা হ্যাঁচড়া বিদ্বজ্জনদের দ্বারা প্রভূত সমালোচিত হয়েছে। এদিকে স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার এবং বিদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশনগুলি লাইভ টেলিকাস্টের মাধ্যমে অবতরণ প্রত্যক্ষ করার জন্য মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার মহাকাশ খাতে বিশেষ করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার দিকে মনোনিবেশ করছে বলে বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা মারফৎ জানা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চাঁদের মিশনের প্রবর্তনের সময় জোর দিয়েছিলেন যে ISRO “ভারতের মহাকাশ অডিসির একটি নতুন অধ্যায়” লিখছে, যার ফলে “প্রত্যেক ভারতীয়র আকাঙ্ক্ষা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা” উন্নীত হচ্ছে। যদিও চন্দ্রাভিযানকে কেন্দ্র করে ভিরতীয়ত্বের ধ্বজা উড়লেও ‘আত্মনির্ভরশীলতা’ নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে। চন্দ্রযান-৩ এর উৎক্ষেপনের পেছনে বিদেশি শক্তি, মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের লগ্নী সেই দিকেই নির্দেশ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই অভিযান যতই প্রশংসা কুড়োক না কেন, দেশের আভ্যন্তরীন অর্থনীতির বেহাল দশা এই গোটা ঘটনার পেছনে দ্বন্দ্ব এবং বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

লেখক

Leave a comment
scroll to top