Close

গণহত্যা-র রায় ৪২ বছর পর: শাস্তি পাবে বৃদ্ধ অভিযুক্ত

চার দশক আগের দলিত গণহত্যা। রায় দিল আদালত। মূল অভিযুক্ত ৯০ বছরে বৃদ্ধ। যাবজ্জীবন সাজা হবে তার? কী বলছে চল্লিশ বছর আগের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ?

চার দশক আগে ঘটেছিল দলিত গণহত্যা। তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। মূল অভিযুক্তের বয়স এখন ৯০ বছর। আদালতের রায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে তাঁর। ঘটনা ১৯৮১ সালের ৩০ ডিসেম্বর। উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মৈনপুরী জেলার সাধুপুর গ্রামে একটি রেশন দোকানকে ঘিরে যাদব ও দলিতদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়।


ঠিক কী নিয়ে বিবাদ এবং গণহত্যা?

সময়ের ভারে তাও ভুলে গিয়েছেন অনেকে। সম্ভবত যাদবদের সেই দোকান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দলিত সম্প্রদায়ের কয়েকজন। কিন্তু দলিত হয়ে উঁচুজাতের বিরুদ্ধে কথা বলবে? এটা কি সহ্য করা যায়? সহ্য করেনি গঙ্গা দয়াল সহ বাকিরা। শুরু হল গণহত্যা।
অভিযোগকারী প্রেমবতীর বক্তব্য, ‘সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা নাগাদ ওরা আমাদের বাড়িতে ঢুকে আসে। কোনও কথা না বলে গুলি চালাতে থাকে। কিছু চায়নি, জিজ্ঞেস করেনি। স্রেফ গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল চারদিক’।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর দশ, আট আর চোদ্দ বছরের তিন ছেলেমেয়ের নিথর দেহ ছিটকে পড়ে এদিকে ওদিকে। মোট দশ জন দলিত গ্রামবাসী প্রাণ হারান। গুলি এসে লাগে প্রেমবতীর পায়েও। যে দাগ এখনও আছে। বর্তমানে তার বয়স সম্ভবত ৭৫ বছর।
সরকারি উকিল রাজীব উপাধ্যায় বলেন, সমস্যাটা হয়েছে নিয়মকানুনের। যখন খুনগুলো হয়, তখন এটা ছিল মৈনপুরী জেলা। ১৯৮৯ সালে জেলা ভাগাভাগি হয়ে এই অঞ্চলটা এসে পড়ে পাশের ফিরোজাবাদ জেলায়। তারপরেও ২০০১ সাল অবধি মামলার সমস্ত নথিপত্র মৈনপুরীতেই পড়ে ছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ আসার পরে সেসব ফিরোজাবাদ জেলা আদালতে সরানো হয়। তাও শুনানি শুরু হতে হতে পেরিয়ে যায় আরও দুই দশক।

২০২১ সাল নাগাদ জমে থাকা মামলা শেষ করতে ফাইল ঘাঁটাঘাঁটি হতেই এই মামলাটি বেরিয়ে আসে। শুরু হয় জরুরি ভিত্তিতে শুনানি। দীর্ঘ সময় গড়িয়েছে। অপরাধে যুক্ত দশ জন অভিযুক্তই ইতিমধ্যে মারা গিয়েছে। মারা গিয়েছেন সাক্ষীরাও। জীবিত গঙ্গা দয়ালকেই শেষে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনাল আদালত। ঘোষণা করা হল ৫৫,০০০ টাকার জরিমানা, যদি না দেওয়া হয় তাহলে আরও ১৩ মাসের হাজতবাস।

কিন্তু ৯০ বছর বয়সে এসে আর যাবজ্জীবন সাজার কোনোও মানে আছে কি? জানেন না প্রেমবতী। গ্রামবাসীরাও রায়ের কথা জানতেন না কিছুই। রায়ের খবর বেরনোর পরে সংবাদমাধ্যমের আনাগোনা বেড়েছে গ্রামে। সাংবাদিকদের কাছেই তাঁরা জানতে পেরেছেন সাজার কথা। প্রেমবতী হাত উল্টে বলেন, ‘ একমাত্র ঈশ্বরই বলতে পারবেন এ কেমন বিচার!’

লেখক

Leave a comment
scroll to top