Close

দুয়ারে পঞ্চায়েত ভোট: রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাস-এর খবর। কেমন আছে বিরোহী?

সন্ত্রাস চলছে রাজ্য জুড়ে। আসছে প্রতিরোধের খবরও। তবে কি জনদরদী প্রকল্প ফ্লপ? রইলো পঞ্চায়েত ভোটের হাল হকিকত।

সন্ত্রাস চলছে রাজ্য জুড়ে। আসছে প্রতিরোধের খবরও। তবে কি জনদরদী প্রকল্প ফ্লপ? রইলো পঞ্চায়েত ভোটের হাল হকিকত।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলায় পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বাজার সরগরম। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসছে সন্ত্রাস এবং প্রতিরোধের খবর। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় দলমত নির্বিশেষে প্রতিরোধে নেমেছে। তবে কি শাসকদলের পর পর জন দরদী প্রকল্পগুলি মানুষের মনে জায়গা তৈরি করল না? কী চলছে এখন? জানা গিয়েছে নদীয়া জেলায় মোট ৮৯টি সিটে এবং উত্তর ২৪ পরগনায় মোট ৪৬টি সিটে পুনর্নির্বাচন হতে চলেছে। কিন্তু এতেও ফল হবে কি? নির্বাচনের সন্ত্রাস কি পুনর্নির্বাচনে জারি থাকবে না? আগামীকাল পুনর্নির্বাচন। কী বলছে জনতা?

শনিবার নির্বাচন পর্ব শেষ হওয়ার পর উত্তর চব্বিশ পরগনার ৭২ টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন CPI-এর জেলা কমিটি। রবিবার ছিল স্ক্রুটিনি পর্ব। বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকে যে নয়টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছিল তার মধ্যে চারটি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে জানা গিয়েছে। বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকে ১২টি বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে খবর। কিন্তু এর মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে সন্ত্রাস। CPI-এর অভিযোগ, পুলিশকে সাথে নিয়েই বিপুল সংখ্যক বাইক বাহিনী এলাকা ঘিরে ধরে প্রার্থীদের হুমকি দিচ্ছে। চলছে বোমাবাজি। বিরোধীদের মিথ্যা মামলায় আটক করার চেষ্টা চলছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ।

অন্যদিকে নদীয়া থেকে খবর, ভোটের পর থেকেই সন্ত্রাসের মুখে জনতা। শনিবার নির্বাচন চলাকালীন শাসকদলের ছাপ্পা ভোটকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ ও রিগিং বাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় আনুলিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের বুথগুলিতে। এলাকার সূত্রে খবর, শনিবার আনুলিয়া হাইস্কুলের এবং প্রাইমারি স্কুলের বুথ গুলিতে সশস্ত্র অবস্থায় সিভিক পুলিশের সহায়তায় ছাপ্পা ভোট করতে ঢোকে শাসকদল আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে সিভিক পুলিশকে আক্রমণ করলে দু্ষ্কৃতিরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। তারপর সাধারণ মানুষ ছাপ্পা দেওয়া ব্যালটে জল ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ। এমনই আর একটি চিত্র উঠে আসছে ঘোড়াগাছা এবং ঘোষ কলোনির বুথ থেকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ সেখানে তৃণমূল প্রার্থী তারক ঘোষ স্বয়ং দলবল সহ ছাপ্পা ভোট দিতে আসে। সেখানেও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে শাসক দল। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হল ছাপ্পা দেওয়া ব্যালট বাক্সে। এখানেই সিপিআইএমের ব্লক প্রার্থী জয়মঙ্গল ঘোষের উপরেও চড়াও হয় দুষ্কৃতিরা। এলাকার মহিলারা তাকে দুষ্কৃতিদের হিত থেকে রক্ষা করে। কোনও বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল না বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

রাতের দিকে অবশ্য পরিস্থিতির বদল হয়। শনিবার রাত ১টা থেকে প্রায় টানা তিনঘন্টা এলাকা অবরোধ করে সন্ত্রাস চাললায় বাইক বাহিনী। বিরোধীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আক্রমণ করে দুষ্কৃতিরা। এই দিন আনুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭৭ নম্বর সিটের বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম বর্মনের বাড়িতে মধ্যরাত্রে আক্রমণ করে দুষ্কৃতিরা। তিনি কোনও মতে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার বাড়ির ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতিরা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ। ক্ষুদিরাম বর্মনের পরিবারের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে তার দাদা দুলাল বর্মনকে মেরে হাত পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে, বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে এবং তার ভাইপো মিলন বর্মনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখেছিল দুষ্কৃতিরা। আনুলিয়া হাসাপাতালে যাওয়ার রাস্তা দুষ্কৃতিদের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকায় তারা আনুলিয়া হাসপাতালে রবিবার সকাল পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে কল্যানি জওহ্যলাল নেহেরু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মিলন বর্মনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই দুই জায়গা থেকেই পুলিশি নিষ্কৃয়তার অভিযোগ এসেছে। এই ঘটনায় এলাকার মানুষ সরাসরি দায়ী করছেন রানাঘাট থানার এস.আই আলতাফ বাবুকে। তার বিরুদ্ধে শাসকদলের সাথে যোগসাজশেরও অভিযোগ করছে বিরোধীরা। যদিও এই মর্মে রানাঘাট থানার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে প্রথমে তারা ফোন ধরেননি এবং পরে ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। বর্তমানে সন্ত্রাসের জেরে এলাকার শাসক বিরোধী দলগুলির কর্মী এবং নেতৃত্বরা কার্যত পরিবার সহ ঘরছাড়া হয়েছেন। যদিও সন্ত্রাস থামেনি। যে সিট গুলিতে পুনর্নির্বাচন হবে সেই সিট গুলির ভোটারদের দুষ্কৃতিরা শাসিয়েছে এবং তারা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে কি না, এই মর্মে ব্যালট পেপারের ছবি তুলে রাখতে বলা হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ করছেন সেখানকার ভোটারেরা।

একটা অন্য ছবি তুলে ধরি। দক্ষিণ নদীয়ায় গত পঞ্চায়েত ভোটে কাঁচড়াপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত, বিরোহী ১নং গ্রামপঞ্চায়েতের অধিকাংশ সিটেই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের আগে সার্ভে চলাকালীন, এলাকার বিরোধীরা সন্ত্রাস-এর অভিযোগ করে। এমনকি তাদের আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দৌড় করানোরও অভিযোগ এসেছে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য। অধিকাংশ জায়গাতেই ভোট হয়েছে বলে খবর। নদীয়া জেলা বিরহী ১ নং পঞ্চায়েত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে তৃনমূলের কিছু লোক জন নিয়ে ছাপ্পা ভোট করতে আসলে ভোটারদের তাড়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়। রাত্র ৮-৩০ মিঃ পর্যন্ত ভোট পর্ব চলে। রাউতারীতে শান্তি পূর্ন ভাবে ভোট পর্ব শেষ হয়েছে ‌৯০১ ভোট পড়েছে যা প্রায় মোট ভোটের ৮০ শতাংশ। সরাটি গাইনপাড়ায় রাত্র ৮-০০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে শান্তি পূর্ন ভাবে এখানে ও প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে খবর। মদনপুর ২নং গ্রামপঞ্চায়েতের কিছু কিছু বুথে একতরফা ভোট হয়েছে। সগুনায় সম্পুর্ন বুথে বেলা ১০টার থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত একতরফা ভাবে তৃনমূলের লোকেরা ছাপ্পা ভোট করে। সেখানে প্রশাসন বলে কিছু ছিলনা বলে দাবি পিডিএস-এর।

Leave a comment
scroll to top