Close

কী করছে নির্বাচন কমিশন, প্রশ্ন হাইকোর্টের, জ্বলছে বাংলা

নির্বাচন কমিশন কী করছে? একের পর এক সন্ত্রাসের খবর রাজ্য জুড়ে। ভাঙরে মৃত্যু তিন বিরোধীর। বিক্ষোভ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে।

পঞ্চায়েত নির্বাচন কে কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ বাংলা।

সুস্থ নির্বাচন সোনার পাথর বাটি। আবার সন্ত্রাস! ভাঙর এক নম্বর ব্লকের পর এবার দুই নম্বর ব্লক।মনোনয়ন পর্বের শেষ দিনেও জ্বলছে ভাঙর। চলল গুলি, ফাটলো বোমা। তিনজনের মৃত্যুর খবর জানা যাচ্ছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন নীরব! সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, সংঘর্ষের সময় বিডিও অফিসের ভেতরেই ছিলেন আরাবুল ইসলাম। মুখ্যমন্ত্রী উল্টে দায়ী করছেন বিরোধীদের, বিশেষত আইএসএফকে। কী করছে কমিশন? কোথায় প্রশাসন? প্রশ্ন হাইকোর্টের।

এলাকা সূত্রে জানা যাচ্ছে, আজ সকাল থেকেই বিডিও অফিস চত্বরের আশেপাশে মুখে গামছা বেঁধে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায় দুষ্কৃতিদের। বেলা বাড়লে প্রথম সিপিআইএম কর্মীদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বাধা দেয় দুষ্কৃতিরা। চলে মারধর। এরপর শাসকদলের কর্মীরা বিডিও অফিস চত্বরে ধীরে ধীরে জমায়েত বাড়ালে, প্রতিবাদে পাল্টা জমায়েত করে আইএসএফ কর্মীরা। এর পরেই শুরু হয় সংঘর্ষের পরিস্থিতি। পুলিশ যেন নীবর দর্শক। দুপুর পর্যন্ত কার্যত বিরোধী দলের কেউই মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারলেন না। শেষে রাত দশটা পর্যন্ত চলে মনোনয়ন জমা দেওয়ার কাজ। অভিযোগ, তখন বিডিও অফিসের ভেতরে বসে ছিলেন স্বনামধন্য আরাবুল ইসলাম।

আজ বিকালে যদিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য বিরোধীদের, মূলত আইএসএফ কে দায়ী করেন তবুও এলাকা সূত্রে খবর হামলা শাসক দলের তরফ থেকেই করা হয়। এমনকি, কিছু জায়গায় দুষ্কৃতিরা নিজেদের শাসক দলের কর্মী বলেও পরিচয় দিয়েছে। খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একের পর এক আক্রান্ত সাংবাদিকেরা। এদিকে আরও জানা যাচ্ছে, গুলির আঘাতে আজ দুপুরের মধ্যেই মারা যান দুই জন। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আইএসএফ কর্মী মহম্মদ মহিদ্দিন মোল্লা। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অফিসের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের বিরোধীরা। চলেছে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান।

নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকে কমিশনের হাতে। তাই ভাঙরে বিশৃঙ্খলার দায় কমিশনের বলছে বিরোধীরা। আজ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসের বাইরে পুলিশ মন্ত্রী আর নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের স্লোগান উঠল। বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকী বললেন, “আমি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি, আমায় প্রশাসনিক সুরক্ষা দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”

এদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জেরবার নন্দীগ্রামে শাসকদল। শেখ সুফিয়ান নির্বাচনের টিকিট পাওয়ায় তৃণমূলের নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লক অফিসে তালা লাগিয়ে দিল শামসুল ইসলাম গোষ্ঠী। এরপর কুনাল ঘোষ নন্দীগ্রামে পৌঁছালে হাতাহাতি হয় ব্লক অফিসে। পরে জানা যায় শেখ শামসুল ইসলাম পেয়েছেন টিকিট। এই বিষয়ে শেখ সুফিয়ানের বক্তব্য ছিল, “এই বিশৃঙ্খলা করে নন্দীগ্রামে দল টেকাতে পারবে না তৃণমূল”। এই মুহূর্তে সুফিয়ান অনুগামীরা নির্দল হয়ে ভোটে লড়ছে।

লেখক

Leave a comment
scroll to top